জোড়া এনকাউন্টার রাজ্যে, গাইঘাটা ধর্ষণে অভিযুক্ত খতম, আহত এসআই
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এনকাউন্টারে খতম ধর্ষণ-খুনে মূল অভিযুক্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হল একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মুখ থেঁতলে খুনের ঘটনায় ধৃত প্রহ্লাদ দাস। এবারও মাঝরাতে অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ সেই সংক্রান্ত কাজ শেষে থানায় ফেরার পথে এক সাব-ইনস্পেক্টরের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত যুবক। আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালান অন্য পুলিশকর্মীরা। তাতেই মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। গাইঘাটা থানার শিমুলপুরের বৈদ্যবাড়ি মোড়ে এই এনকাউন্টারের খবর জানাজানি হওয়ামাত্র শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। বারুইপুরের মতো গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, ‘মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনতে হলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।’ বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও এনকাউন্টারকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের (আর জি কর কাণ্ড) মতো ঘটনা... এনকাউন্টার হয়েছে। ছেলেটির মায়ের হয়তো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তিনি ছেলেকে ঠিক করে মানুষ করতে পারেননি। যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসাবে দেখে, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।’ যদিও গাইঘাটার এই এনকাউন্টারের ঘটনায় সিআইডিকে তদন্তভার দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে ফিরে ভবানী ভবনে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে বলেন, ‘অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যের মতো বাংলাতেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। শুধরে যাও, নাহলে জেলে ভিতর থাকতে হবে।’

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে প্রহ্লাদকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে যান আধিকারিকরা। তিনটি গাড়ির মধ্যে একটিতে পুলিশ প্রহরায় ছিল ধৃত যুবক। রাত দু’টো নাগাদ প্রথমে যাওয়া হয় মহিষাকাটি গ্রামের প্রহ্লাদের বাড়িতে। তখন পরিবারের সকলে ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রহ্লাদই ডেকে তোলে তাঁদের। বাড়ির সবাইকে জড়িয়ে কান্নাকাটি করে। মিনিট পাঁচেক পর পুলিশ তাকে নিয়ে রওনা হয় ঘটনাস্থলে। সেখানে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা বিস্তারিতভাবে দেখায় অভিযুক্ত। পুনর্নির্মাণ শেষ করে ধৃতকে নিয়ে গাইঘাটা থানার দিকে ফিরছিল পুলিশ। রামচন্দ্রপুর পেরিয়ে বৈদ্যবাড়ির মোড়ে পৌঁছতেই বাথরুমে যাওয়ার কথা জানায় প্রহ্লাদ। রাস্তার বাঁ-দিকে ছিল ধানজমি। সেখানেই প্রহ্লাদকে নামানো হয়। পাহারায় ছিলেন গাইঘাটা থানার সাব-ইনস্পেক্টর তথা ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী আধিকারিক অভীক কোটাল। অভিযোগ, গাড়ি থেকে নামার পরেই আচমকা অভীকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় প্রহ্লাদ। তারপর পুলিশের দিকে গুলি চালাতে চালাতে পালানোর চেষ্টা করে। গুলি লেগে ভেঙে যায় পুলিশের গাড়ির কাচ। এরপর প্রহ্লাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় পুলিশকর্মীদের। ধৃতকে আটকাতে গিয়ে জলে ভরা ধানজমিতে পড়ে যান এসআই অভীক। পুলিশের বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হন অন্য পুলিশকর্মীরা। প্রহ্লাদের বুকে, মাথায় ও কাঁধে গুলি লাগে। তড়িঘড়ি চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। জখম এসআইয়ের চিকিৎসা চলছে বনগাঁ হাসপাতালে।
গাইঘাটায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার সকালে প্রহ্লাদকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। নির্যাতিতার বাড়ি গোপালনগরে। তবে পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে ছোটোবেলা থেকেই গাইঘাটার রামচন্দ্রপুর গ্রামে মামার বাড়িতে থাকত সে। অভিযুক্ত প্রহ্লাদের বাড়ি রামচন্দ্রপুরের কাছেই মহিষাকাঠি গ্রামে। দু’জনের মধ্যে পূর্ব পরিচয় ছিল। জানা গিয়েছে, শনিবার রামচন্দ্রপুর বাজারে একটি জলসায় বান্ধবীর সঙ্গে গিয়েছিল কিশোরী। সেসময় ফোন করে তাকে ডেকে পাঠায় প্রহ্লাদ। জলসার মঞ্চ থেকে প্রায় দেড়শো মিটার দূরে একটি জায়গায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় ধর্ষণ ও খুনের কথা স্বীকার করে প্রহ্লাদ। তার বাড়ি থেকে রক্তমাখা পোশাকও উদ্ধার করা হয়। প্রহ্লাদের রক্তের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 
বারুইপুরের পর গাইঘাটাতেও গভীর রাতে এভাবে ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন বনগাঁ আদালতের এক বিচারক এবং বিডিও। বিকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রহ্লাদের দেহের ময়নাতদন্ত হয় বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। হয়েছে ভিডিয়োগ্রাফিও। তারপর প্রহ্লাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন  হয়েছে গোবরডাঙা মহাশ্মশানে।