নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খড়দহ-রিষড়া ফেরি পরিষেবা পরিচালনা নিয়ে দুই পুরসভার দড়ি টানাটানি অব্যাহত। পরিবহণ দপ্তর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে বৈঠকের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি খড়দহ পুরসভা থেকে শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট পরিচালনার দাবি উঠেছে। পাল্টা রিষড়া পুরসভার দাবি, স্বাধীনতার আগে থেকে তারা এই ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব সামনে আসছে। তাছাড়া, চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত তারাই ঘাটের দায়িত্বে। স্থানীয় কর্মীদের অসহযোগিতায় সাময়িক কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দুই পুরসভার এই দড়ি টানাটানির মাঝে পড়ে ভুগছেন নিত্যযাত্রীরা। দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই শ্যামসুন্দর ফেরিঘাট। এখন ভাটার সময় ফেরিঘাটের পন্টুন জেটি থেকে জলস্তর আরও নীচে নেমে যায়। নদীর চড়া জেগে ওঠে। তাই প্রতিদিন ভাটা চলাকালীন কয়েক ঘন্টা এই ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কয়েক বছর আগে ওই ফেরিঘাটের অদূরে টিটাগড় পুরসভা এলাকায় নতুন ফেরিঘাট তৈরি করা হয়। ভাটার সময় শ্যামসুন্দর ঘাটের পরীবর্তে সেখান থেকেই ফেরি চলাচল করে। তবে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে সরব হন স্থানীয়রা। শ্যামসুন্দর ফেরিঘাটের ১০ কর্মীর বাড়ি খড়দহ এলাকায়। তাঁদের বেতন হয় রিষড়া পুরসভা থেকে। সূত্রের খবর, এই কর্মীদের সঙ্গে রিষড়া পুরসভার ঝামেলার কারণে শ্যামসুন্দর ঘাটের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের কাজ কেড়ে নিতে চাইছে রিষড়া পুরসভা। ঐতিহ্যবাহী শ্যামসুন্দর ঘাট পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিয়ে টিটাগড় পুরসভা এলাকার নতুন ঘাট দিয়ে ফেরি চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই আবহে খড়দহ পুরসভাই শ্যামসুন্দর ঘাট পরিচালনা করুক—এই দাবি জোরালো হচ্ছে। দাবি পূরণে পুরসভা পরিবহণ দপ্তর ও নগোরন্নয়ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠকেও রফাসূত্র বেরয়নি।
খড়দহ পুরসভার চেয়ারম্যান নিলু সরকার বলেন, ‘পরিবহণ দপ্তর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। একাধিক মত নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। সরকার যে নির্দেশ দেবে, সেই মতো ফেরিঘাট চলবে।’ রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র বলেন, ‘১৯২৭ সাল থেকে এই ফেরিঘাট রিষড়া পুরসভা পরিচালনা করছে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এই ফেরিঘাট চালানোর জন্য পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে আমাদের এগ্রিমেন্ট রয়েছে। আমরা শ্যামসুন্দর ফেরিঘাটের কর্মীদের মাইনে দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভাকেও মাসিক টাকা দিই। করোনার সময় ফেরি বন্ধ থাকলেও ওই টাকা বন্ধ করা হয়নি। সেখানকার কিছু কর্মীর অসহযোগিতা, চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরও ফেরি পরিষেবা চালু রয়েছে। কোনওভাবে ওই ফেরিঘাট বন্ধ করা হবেনা। রাজ্য সরকার পাশে যে ফেরিঘাট করেছে, সেখান দিয়ে ভাটার সময় ফেরি চলছে। প্রয়োজনে লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে দু’টি ঘাটই সচল রাখা হবে।’