অভিষেক পাল, বহরমপুর: পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া ওরফে পিএফআই নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার সক্রিয় সদস্যরা আত্মগোপন করা শুরু করেছিল। কিন্তু ফের তারা মাথা তুলতে শুরু করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের দুটি কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের দিকে ঝুঁকছে অধিকাংশ সদস্য। জেএমবি ভেঙে যাওয়ার পর ওপারে নব নির্মিত জাহ (জেএএইচ) ও টিইউ (তাউহিদুল উল্লিহা) সংগঠনদুটি শাখা বিস্তার শুরু করেছে। এবার তাদের লক্ষ্য মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। কারণ, একসময় মুর্শিদাবাদ জেলায় পিএফআইয়ের ব্যাপক সংগঠন গড়ে উঠেছিল। দলছুট সদস্যদের এবার কাজে লাগিয়ে উগ্র মৌলবাদ ভাবধারাকে ছড়িয়ে দিতে চাইছে বাংলাদেশের এইসব সংগঠনের মৌলবাদী নেতারা।
উল্লেখ্য, সিমি নিষিদ্ধ হওয়ার পর সিমির সদস্যরাই পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াতে নাম লেখাতে থাকে। পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পর ওই সংগঠনের সামনে থাকা নেতৃত্বরা সরাসরি এসডিপিআইতে ঢুকে যায়। এসডিপিআই রাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় সেখানে সুরক্ষা বেশি। তাই অনেকেই সেখানে সক্রিয় সদস্য হয়ে রয়েছে। তবে, অনেক সদস্যরা আত্মগোপন করে বিভিন্ন নামে ছোট ছোট সামাজিক সংগঠন খোলে। এখন সে সব সংগঠন খাতায় কলমে থাকলেও, বাস্তবে কোনও কাজ নেই তাদের। বরং পিএফআই নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছদ্মবেশ নেওয়া সদস্যরা বাংলাদেশের এই দুই সংগঠনের সাহায্যে এখন সীমান্তবর্তী এলাকায় ফের মাথা তুলতে শুরু করেছে। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন রাজ্য ও কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থা। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি লালগোলাতে জাহ সংগঠনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে পিএফআইয়ের বেশ কিছু সদস্য অংশ নেয় বলে জানা গিয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকেও জাহের নেতারা এসে অংশ নিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের দাবি, পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর অধিকাংশ সদস্যরা বিভিন্ন ছোটখাটো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এখন তারা সুযোগ বুঝে অধিকাংশই বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠনের দিকে ঝুঁকছে। কারণ, জাহ ও টিইউ নিজেদের সংগঠন মজবুত করার জন্য ভালো পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। সেই অর্থানুকূল্যে এখন এপারে পিএফআইয়ের সদস্যরা মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের তাউহিদুল উল্লিহা সংগঠন মজবুত করার জন্য অর্থ আসছে গল্ফ কান্ট্রি থেকে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই টাকায় পুষ্ট হচ্ছে এপারের শাখাগুলিও। নতুন সদস্যদের টাকার টোপ দিয়ে সংগঠনে রিক্রুট করা হচ্ছে। নতুনদের মধ্যে উগ্র মৌলবাদী ভাবধারা বিস্তার করে সহজে হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত করতে চাইছে নেতারা।