নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলন্ত ট্রেন থেকে এক ছানা ব্যবসায়ীকে ধাক্কা দিয়ে ফেললেন টিটিই (টিকিট পরীক্ষক)। বাপি ঘোষ নামে ওই ব্যবসায়ীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সোদপুরে। অভিযুক্ত টিটিই গোপীনাথ কয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে দমদম থানার জিআরপি। বাপিবাবুর সহযাত্রীরা ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছেন তা শিউরে ওঠার মতো। জানা গিয়েছে গোপীনাথবাবুর বিরুদ্ধে এই আগেও এরকম অভিযোগ উঠেছিল।
বাপি ঘোষ নদীয়ার বাসিন্দা। জনা পাঁচেক অন্যান্য ছানা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গেদে থেকে শিয়ালদহগামী ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় উঠেছিলেন। তাঁর সহযাত্রীরা রেল পুলিসকে জানিয়েছেন, তাঁরা বসেছিলেন। টিটিই সোদপুরের দু’টি স্টেশন আগে কামরায় আসেন। বাপিবাবুর কাছে ভেন্ডারের টিকিট ছিল না। তবে সাধারণ কামরার টিকিট ছিল। সেটি বের করে দেখান পরীক্ষককে। টিটিই তা গ্রাহ্য না করে ভেন্ডারের টিকিট দেখানোর দাবি করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তারপর টিকিট না থাকার কারণ দর্শিয়ে টিটিই ১২০০ টাকা জরিমানা করেন। ওই পরিমাণ টাকা নেই বলে জানান ছানা ব্যবসায়ী। এ নিয়ে ফের দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি বাধে। বচসা চলাকালীন সোদপুর স্টেশন চলে আসে। সে সময় বাপিবাবু ছানা নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যেতে চান। তখন টিটিই তাঁকে আটকান। নামতে বাধা দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দেয়। তারপরই চলন্ত ট্রেন থেকে বাপিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন টিটিই। ছিটকে রেল লাইনে গিয়ে পড়েন ছানা ব্যবসায়ী। তবে ট্রেন তখন সবে স্টেশন ছেড়েছিল। গতি বেশি ছিল না। ফলে কপাল জোরে বেঁচে যান প্রাণে। যাত্রীরা চিৎকার করে ওঠেন। প্ল্যাটফর্মে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তাঁরা উদ্ধার করেন আহত ছানা ব্যবসায়ীকে। এর মধ্যে বাপির সহযাত্রীরা পরের স্টেশনে নেমে সোদপুর ফিরে আসেন। খবর দেন দমদম জিআরপিকে। রেল পুলিস ঘটনাস্থলে আসে। বাপিবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, মাথার ভিতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট সঙ্কটজনক। খবর দেওয়া হয় বাপির পরিবারকে। ছানা ব্যবসায়ীরা পুলিসে লিখিত অভিযোগ জানান। পুলিস রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে টিটিই গোপীনাথ কয়ালের খোঁজ পায়। গোপীনাথ শিয়ালদহে পোস্টিং। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।