Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টোটো চালকদের মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের শিকার পুরসভার চেয়ারম্যান

টোটো চালকদের মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের শিকার পুরসভার চেয়ারম্যান
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে এমনিতেই অতিষ্ঠ বাঁকুড়াবাসী। টোটো চালকদের দাপাদাপিতে বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দারা নাজেহাল হচ্ছেন। সেই তালিকা থেকে বাদ গেলেন না খোদ পুর চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদারও। শহরের এক নম্বর নাগরিকের কাছ থেকেও মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হয়েছে বলে চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হবেন বলেও অলকাদেবী জানিয়েছেন। পুর চেয়ারম্যান অবশ্য নিজের পরিচয় জানিয়ে বাড়তি ভাড়া দেননি। তবে তাঁর মতো সুবিধা শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের বরাতে জোটে না। গাঁটের বাড়তি কড়ি খরচ করেই তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। ফলে অবিলম্বে শহরে টোটোর নির্দিষ্ট রুট ও ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে বাসিন্দারা সরব হয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন আশ্বাস দিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেন, পুরসভার কাজ ছাড়া আমি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি না। মন্দিরে পুজো দেওয়া বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজের জন্য আমাকে দৈনিক শহরের নানা জায়গায় যেতে হয়। ওইসময় আমি টোটো ভাড়া করি। শহরের মাচানতলা থেকে আমার বাড়ি পর্যন্ত মেরেকেটে ১০-১৫ টাকা ভাড়া হওয়া উচিত। কিন্তু, আমার কাছে এক টোটো চালক ৩০ টাকা দাবি করেন। আমি তখন তাঁকে নিজের পরিচয় দিই। ওই টোটো চালক তখন আমাকে ন্যায্য ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। শহরের বাসিন্দারাও আমাদের কাছে মাত্রাতিরিক্ত টোটো ভাড়া নিয়ে প্রচুর অভিযোগ করছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হব। টোটোর রুট ও ভাড়া নির্ধারণ মহকুমা বা জেলা প্রশাসন করতে পারে। আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরও জেলা প্রশাসনের আওতাতেই রয়েছে। ফলে প্রশাসনকেই এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পুরসভার তরফে আমরা প্রশাসনকে যাবতীয় সাহায্য করব। 
Advertisement
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহরে দীর্ঘদিন ধরেই টোটোর কোনও নির্দিষ্ট রুট ছিল না। মাঝে প্রশাসনের তরফে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। শহরের মধ্যে যে কোনও দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা ভাড়াও নির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়। কিন্তু, তা বাস্তবায়িত হয়নি। টোটো চালকরাই নিজেদের মধ্যে কিছু রুট ঠিক করে নিয়েছেন। তা অবশ্য অনেকেই মানেন না। তা নিয়ে টোটো চালকদের মধ্যেও বচসা থেকে হাতাহাতি সবই হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা জানান, রাতে বাঁকুড়া রেল স্টেশন, গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড বা শহরের যে কোনও বাস স্টপ থেকে বাড়ি যাতায়াতের জন্য টোটো ভাড়া করলেই বাড়তি টাকা গুনতে হয়। তিন চারগুণ ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে টোটো চালকরা নাছোড় হয়। দিনের বেলাতেও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে বেশি টাকা দাবি করা হয়। ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করলেই যাত্রী তুলতে চালকদের একাংশ নারাজ। জরুরি প্রয়োজনে বা বাধ্য হয়ে কেউ টোটোয় চাপলে ভাড়ার কোনও ‘মা-বাপ’ থাকে না বলেও শহরবাসীর অভিযোগ। এবার খোদ চেয়ারম্যান সরব হওয়ায় সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে অনেকেই আশা করছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ