Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিস্তা ক্যানেলের জন্য আর জমি অধিগ্রহণ নয়

তিস্তা ক্যানেলের জন্য আর জমি অধিগ্রহণ নয়
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি:  তিস্তা ক্যানেলের জন্য নতুন করে আর জমি অধিগ্রহণ নয়। উত্তরের চার জেলা জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিংয়ের সমতলে পাইপের সাহায্যেই সেচের জল পৌঁছে দিতে উদ্যোগী রাজ্য। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে এনিয়ে বৈঠকে প্রকল্পের প্রস্তাবিত নকশা তুলে ধরা হয়। সেচদপ্তরের কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, ডিটেইল প্রোজেক্ট রিপোর্ট তৈরির আগে প্রকল্পটি নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের বিস্তারিত জানাতেই এদিনের বৈঠক। প্রস্তাবিত নকশায় কোন কোন এলাকার উপর দিয়ে পাইপ লাইন যাবে, কোথায় কোথায় পাম্প হাউস হবে, সংশ্লিষ্ট পাম্প হাউস থেকে কতটা এলাকায় সেচের জল দেওয়া যাবে, সবটাই তুলে ধরা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনা হয় বৈঠকে। এলাকার কৃষকদের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলবেন। চাষিদের মতামত শোনা হবে। সেইমতো প্রকল্পের প্রস্তাবিত নকশায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। চূড়ান্ত নকশার ভিত্তিতে তৈরি হবে ডিপিআর। তারপর অনুমোদনের জন্য রাজ্যে জমা দেওয়া হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ বরাদ্দে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। বৈঠক শেষে তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জে পি পান্ডে বলেন, এখন যে পর্যন্ত তিস্তা সেচখাল, তার বাইরেও প্রচুর চাষের জমি রয়েছে। সেইসব জমিতে তিস্তা ক্যানেল থেকে পাইপের সাহায্যে সেচের জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের চারটি জেলার কৃষক এর মাধ্যমে উপকৃত হবে। ডিপিআর তৈরির আগে প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এদিন বৈঠক করা হল। প্রকল্পটির মাধ্যমে কীভাবে কৃষকরা উপকৃত হবেন, তা বোঝানো হয়েছে। 
Advertisement
তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের ওই আধিকারিক আরও বলেন, তিস্তা ক্যানেলের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা রয়েছে, সেখানে সেচখাল হবে। কিন্তু নতুন করে আর ক্যানেলের জন্য জমি নেওয়া হবে না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকের জমির নীচে দিয়েই পাইপের মাধ্যমে সেচের জল সরবরাহ হবে। কৃষক চাষের প্রয়োজনমতো তা ব্যবহার করতে পারবে। 
প্রকল্পের নকশা দেখে খুশি রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের রূপালি দে সরকার। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, খুবই ভালো প্রকল্প। তিস্তা ক্যানেলের জল এখন অনেক জায়গাতেই পৌঁছয় না। ফলে কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে পাইপ লাইনে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর পয়েন্ট করা থাকবে। সেখান থেকে কৃষক তাঁর প্রয়োজনমতো জল নিতে পারবেন। কখন জল দেওয়া হচ্ছে, মেসেজও চাষির মোবাইলে চলে আসবে। 
যদিও প্রস্তাবিত নকশায় জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে দু’টি পাম্প হাউসের উল্লেখ থাকায় আপত্তি জানান পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিনয় রায়। বলেন, দু’টি পাম্প হাউসের মাধ্যমে আমার সব পঞ্চায়েতের কৃষক সেচের জল পাবেন না। বিষয়টি জানিয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ