ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি: বাংলা অ্যাকাডেমির অমর একুশে বইমেলায় উত্তেজনা। সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের বই রাখায় অমর একুশে বইমেলায় ‘সব্যসাচী প্রকাশনার’ স্টলে ঝামেলা শুরু করেন কয়েকজন ব্যক্তি। তসলিমার বই কেন রাখা হবে? এই বিষয়ে গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকা ‘সব্যসাচী’র স্টলে রীতিমতো হট্টগোল বেঁধে যায়। এই স্টলের বিরুদ্ধে নাস্তিকতা প্রচারের অভিযোগ তুলে সেটি ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত, রবিবার থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রচার চলছে। তারপর গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় ঘটল এই অপ্রীতিকর ঘটনা। জানা গিয়েছে, ‘সব্যসাচী প্রকাশনার’ স্টলে একদল যুবক গিয়ে হট্টগোল শুরু করে। যাকে কেন্দ্র করে বইমেলায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে ওই স্টলেই বসেছিলেন লেখিকা তথা ‘সব্যসাচী’র প্রকাশক শতাব্দী ভব। আচমকাই তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তারপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই যুবকেরা তাঁকে মারধর করতে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তাঁরা। আটক করা হয় লেখিকা শতাব্দী ভবকে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য ওই যুবকদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি।
Advertisement
এই বিষয়ে গতকাল, সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিস জানিয়েছে, বইমেলার ১২৮ নম্বর স্টল অর্থাৎ ‘সব্যসাচী প্রকাশনার’ স্টল আপাতত বন্ধ থাকবে। মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা বিষয় নিয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। তিনি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘একুশে বইমেলা আমাদের দেশের লেখক ও পাঠকদের প্রাণের মেলা। আমাদের দেশের সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, চিন্তক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির, পেশার এবং বয়সের মানুষের মিলনস্থল। বইমেলায় এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের উন্মুক্ত সাংস্কৃতিকচর্চাকে ক্ষুণ্ণ করে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মর্যাদার প্রতিও অবমাননা প্রদর্শন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুলিস ও বাংলা অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে। মেলায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং এই তাৎপর্যপূর্ণ স্থানে যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে পুলিসকে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’



