Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘বিচার ব্যবস্থায় আস্থা কমছে’, কোর্ট ছেড়ে রাজনীতি! বিস্ফোরক প্রধান বিচারপতি

বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারাচ্ছেন কেন? এজন্য দায়ী বিচারপতিরাই। দাবি স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের।

‘বিচার ব্যবস্থায় আস্থা কমছে’, কোর্ট ছেড়ে রাজনীতি! বিস্ফোরক প্রধান বিচারপতি
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারাচ্ছেন কেন? এজন্য দায়ী বিচারপতিরাই। দাবি স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের। বুধবার ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত বিচারবিভাগ সংক্রান্ত এক গোলটেবিল বৈঠকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। রীতিমতো তোপ দেগেছেন সেইসব প্রাক্তন বিচারপতিদের সম্পর্কে, যাঁরা চাকরিজীবন শেষের আগেই স্বেচ্ছাঅবসর নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের তরফে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। কিংবা অবসরের পর সরকারি কোনও বৃহৎ পদে যোগ দিয়েছেন। গাভাইয়ের অভিমত, এহেন সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েও। আর তাঁরা বিচারপতি থাকাকালীন যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে রায় প্রদান করেছেন, সব কিছুই থাকবে মানুষের সন্দেহের তালিকায়।

Advertisement

দেশের প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত মুনাফা ও স্বার্থসিদ্ধির কথা ভেবেই যে এই সব বিচারপতিরা রায় দেননি, তার নিশ্চয়তা কী? শুধু যে এই প্রসঙ্গগুলি তিনি উল্লেখ করে঩ছেন, তা নয়। স্পষ্ট জানিয়েছেন, একজন বিচারপতির নীতিগতভাবে অবসর পরবর্তী সময়ে কোনওরকম সরকারি পদ কিংবা অন্য সাংবিধানিক সুযোগ সুবিধা নেওয়া উচিত নয়। রাজনীতির অন্দরেও প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এসবের কারণে সর্বাগ্রে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। এমনকী নৈতিকতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। লন্ডনে যে গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন, সেই সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘বিচারবিভাগীয় যোগ্যতা এবং জনগণের আস্থা রক্ষা’। গাভাই মনে করেন, বিচার ব্যবস্থার সবথেকে বড় সম্পদ হল মানষের বিশ্বাস, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং স্বচ্ছতা। এই স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি সমর্থন করেছেন বিচারপতিদের সম্পত্তি প্রকাশ্যে ঘোষণা করার বিষয়টি। এমনকী যে কোনও শুনানির সরাসরি সম্প্রচারও সেই কারণেই প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে পাওয়া অথবা তা রক্ষা করা বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দুর্নীতির সঙ্গে আদালতের সামান্যতম সম্পর্ক থাকলে সেটা গোটা বিচার ব্যবস্থার নৈতিকতাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। 
আদালতের উপর জনতার আস্থাহীনতার কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলির কথা গাভাই ব্যক্ত করেছেন কড়া ভাষায়, প্রতিটি প্রবণতা সাম্প্রতিক অতীতে লক্ষ্য করা গিয়েছে। অবসরের আগেই কলকাতা হা‌ই঩কোর্টের বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়ে যান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ভোটে জিতে এমপিও হয়েছেন। ২০১৯ সালে রামমন্দির স্থাপনের পক্ষে রায় ঘোষণা করা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবসরের পর রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভার এমপি হয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাসভবন থেকে পাওয়া অগ্নিদগ্ধ নোটের বান্ডিল নিয়ে প্রবল আলোড়ন পড়েছে।
আবার প্রশ্ন উঠেছে, বিচারপতিদের নিয়োগ কিংবা বিচারপতিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত বিচারপতিরা করবেন কেন? এই প্রবণতা গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক নয় বলে দীর্ঘদিন ধরেই চাপানউতোর চলছে বিচার বিভাগ বনাম সরকার তথা প্রশাসনের মধ্যে। সংসদের আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনেই বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট মোশন আনার প্রবল সম্ভাবনা। তার ঠিক আগে প্রধান বিচারপতির মুখে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কঠোর মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ