নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া হুঁশিয়ারির জেরে অনিশ্চয়তার মেঘ তৈরি হয়েছে ভারত ও মার্কিন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে। ভারত প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন‘ মনোভাবের কারণে। সরকারের অভ্যন্তর থেকে ট্রাম্পের আচরণ সম্পর্কে এই শব্দটিই ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ, যে সময়ে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ই ট্রাম্প এভাবে ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলে হেয় করছেন। নয়াদিল্লি মনে করছে এটি চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা। সেই কারণেই জানা যাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারত এবার আরও অনড় মনোভাব নেবে। কারণ কৃষি এবং জ্বালানি সংক্রান্ত কিছু শর্ত চুক্তিতে চাইছে আমেরিকা। যাতে ভারতের আমদানি বহুগুণ বেড়ে যায়। ইথানল আমেরিকা একাই বিক্রি করতে চায় ভারতকে। বস্তুত ইথানল বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেলের সঙ্গে মিশ্রিত করা হচ্ছে। ভারতেও এ ধরনের পেট্রল মেলে। সেই কারণে আমেরিকা চাইছে, ভারত তাদের থেকেই ইথানল কিনুক। এছাড়াও একঝাঁক কৃষিপণ্য ক্রয়ের শর্ত আরোপ করতে চান ট্রাম্প। ভারতীয় কৃষকদের বঞ্চিত করে কিংবা সংকটে ফেলে কোনও চুক্তি করবে না— ভারত এই মর্মেই এবার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সরকার কোনও প্রত্যক্ষ মন্তব্য না করলেও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের মুখপত্র অর্গানাইজারের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে প্রবল সমালোচনা করে বলা হয়েছে, বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিত। খোদ আর এস এসের মুখপত্রই যেখানে চুক্তিকে অনিশ্চিত আখ্যা দিচ্ছে, তখন সেই অবস্থান যে সরকারের অন্দর থেকেই এসেছে কিংবা সংঘ এরকমই চায়, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে এসেছিল বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায়। জানা গিয়েছে সেই আলোচনা সমাপ্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ফেরেনি। কারণ আমেরিকার সব শর্ত ভারত মানতে চায়নি। সেই কারণেই কি বছরের শুরুতেই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি? আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, অথচ ভারতের উপর আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেনি। জানা যাচ্ছে, ভারতের অন্যতম দাবি ছিল, চুক্তিতে স্বাক্ষর তখনই হবে যখন শুল্ক প্রত্যাহার হবে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা থেকে অশোধিত তেল কেনা ভারত এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। অথচ ট্রাম্প তারপরও সন্তুষ্ট নন। দেশের অন্দরে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই মনোভাব দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের পরই ভারত অবস্থান কঠোর করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল যাচ্ছেন ব্রাসেলসে। ইওরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে।



