নয়াদিল্লি: রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরেই তুমুল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিল্পমহলে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, ট্রাম্পের নয়া সিদ্ধান্তে ধাক্কা খেতে চলেছে সিফুড, টেক্সটাইল, রত্ন, অলঙ্কার, গাড়ি যন্ত্রাংশের মতো একাধিক দ্রব্যের রপ্তানি। এর ফলে কাজ হারাতে পারেন হাজার হাজার শ্রমিক।
স্বস্তিকা ইনভেস্টমেন্টের হেড অব রিসার্চ সন্তোষ মিনার মতে, এই শুল্কবৃদ্ধি মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ ট্রাম্প আগেই এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করে ৫০ শতাংশ শুল্কবৃদ্ধিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী কৌশল রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। সন্তোষ জানিয়েছেন, নয়া শুল্কনীতি জারি হবে আগামী ২৭ আগস্ট। অর্থাৎ হাতে এখনও দিন ২০ রয়েছে। যদিও ২৫ শতাংশ শুল্ক নিয়ম বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। এরমধ্যে আগামী ২৪ আগস্ট মার্কিন প্রতিনিধি দল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আসছে। তার আগে শুল্কবৃদ্ধি করে বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নয়া সিদ্ধান্তে উদ্বেগে রয়েছে সি-ফুড রপ্তানিকারীরা। তাদের দাবি, ভারতের রপ্তানির ৪০ শতাংশ সি-ফুডই আমেরিকায় যায়। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। সি ফুড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পবনকুমার জি জানিয়েছেন, আমরা অবাক হয়ে গিয়েছি। শুধু এই ক্ষেত্রই নয়, কৃষকদেরও ক্ষতি করবে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিরুপ্পুর, নয়ডা, সুরাতের কাপড় রপ্তানিকারী সংস্থাগুলির কর্তারাও চিন্তিত। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নয়া শুল্কে পণ্য রপ্তানি অসম্ভব বলে মনে করছে তাঁরা। তাই আপাতত আমেরিকায় রপ্তানির জন্য কাপড় তৈরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিরুপ্পুর বস্ত্র রপ্তানি সংগঠনের চেয়ারম্যান শক্তিভেল জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ইতিবাচক জায়গায় না পৌঁছনো পর্যন্ত সমস্যা থাকবেই। আগামী ৩০-৪০ দিন এই পরিস্থিতি চলবে। তবে নয়া শুল্ক জারি হলে টেক্সটাইল ও লেদার শিল্পে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারাবেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রত্ন ও অলঙ্কার শিল্পেও। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আমেরিকায় সবমিলিয়ে ৮৩ হাজার কোটি টাকার হীরে ও রত্ন-পাথর বসানো গয়না রপ্তানি করেছে ভারত। নয়া শুল্ক নীতির জেরে ইতিমধ্যেই অলঙ্কার তৈরির বিকল্প স্থান খোঁজা শুরু করেছেন উৎপাদকরা। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিট বনসালি জানিয়েছেন, দুবাই বা মেক্সিকোর মতো দেশে শুল্ক অনেক কম। তাই সেখানেই অলঙ্কার তৈরি করে রপ্তানি পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশে গাড়ির যন্ত্রাংশ রপ্তানি করে ভারত। এরমধ্যে অর্ধেকেই অর্ধেকই যায় আমেরিকায়। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৬১ হাজার কোটি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণায় এই শিল্পও ব্যাপক ধাক্কা খেতে চলেছে।