Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ট্রাম্পের শুল্কে ভারতের অর্থনীতিতে ধস, উল্টো সুর মোদির উপদেষ্টারই

কখনও অর্থমন্ত্রী, কখনও বাণিজ্যমন্ত্রী, কখনও অর্থমন্ত্রকের কর্তারা... নরেন্দ্র মোদির বৃত্তের প্রত্যেকেই বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছেন—যতটা মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনে ভারতের অর্থনীতি তেমন ধাক্কা খাবে না।

ট্রাম্পের শুল্কে ভারতের অর্থনীতিতে ধস, উল্টো সুর মোদির উপদেষ্টারই
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কখনও অর্থমন্ত্রী, কখনও বাণিজ্যমন্ত্রী, কখনও অর্থমন্ত্রকের কর্তারা... নরেন্দ্র মোদির বৃত্তের প্রত্যেকেই বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছেন—যতটা মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনে ভারতের অর্থনীতি তেমন ধাক্কা খাবে না। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, ভারত আগে থেকেই বিকল্প একঝাঁক ব্যবস্থার কথা ভেবে রেখেছে। কিন্তু এই দাবি কতটা সত্যি? এই প্রশ্ন মাথাচাড়া দেওয়ার কারণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অনন্ত নাগেশ্বরণের মন্তব্য। সোমবার তিনি বলেছেন, ‘ভারতের উপর আরোপ করা এই মার্কিন শুল্ক যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, হয়তো তীব্র কোনও সঙ্কট হবে না। কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদি হলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে দেশ।’ তাঁর স্পষ্ট অভিমত, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার যা হওয়ার কথা ছিল, সেই তুলনায় অন্তত ০.৫ শতাংশ কমে যাবে। তাঁর এই আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, এর অভিঘাত কিন্তু অর্থনীতির জন্য বড়সড় উদ্বেগের হতে চলেছে। কিন্তু সেটাও ছাপিয়ে গিয়েছে নাগেশ্বরণের ‘দীর্ঘকালীন প্রভাবে’র আশঙ্কায়। তাঁর সাফ কথা, ‘আমেরিকার চাপানো বাড়তি ৫০ শতাংশ শুল্কের সিদ্ধান্ত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, অর্থাৎ ট্রাম্প যদি নীতি বদল না করেন, সেটা বড় সমস্যা ডেকে আনবে। এমনকী, এই বাড়তি শুল্ক ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকলেও বড়সড় প্রভাব পড়বে অর্থনীতির উপর।’ তাঁর আশা, এই শুল্ক-চাপ সম্ভবত অল্প সময়ের জন্য। তবে চলতি আর্থিক বছরের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে ০.৫ থেকে ০.৬ শতাংশ কমে যেতে পারে জিডিপি বৃদ্ধির হার। এমনকী তিনি বলেছেন, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হতে চলেছে ভারতের অর্থনীতি। এরপরও অবশ্য নাগেশ্বরণ আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘আমি এখনও মনে করি, চলতি আর্থিক বছরে ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশের মধ্যেই থাকবে জিডিপি বৃদ্ধিহার।’ কিন্তু নতুন অর্থবর্ষে চাকা কি ঘুরবে? ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি বৃদ্ধির হার কি সম্ভব? এই নিয়ে সতর্ক নাগেশ্বরণ। তাঁর বার্তা, ‘যদি সব ঠিক চলে, তাহলে হয়তো বাড়বে। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে শুল্ক-সিদ্ধান্ত কতদিন স্থায়ী হচ্ছে তার উপর।’ যদিও তাঁর আশা, যেহেতু মূল্যবৃদ্ধির হার আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং সম্প্রতি প্রত্যক্ষ করে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তাই দেশে আয় ও ব্যয় দু’টিই সেই অনুপাতে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনটা হলে খুব বড় ধাক্কার সম্ভাবনা কম। 

Advertisement

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একদিকে সোমবার নাগেশ্বরণের এই বিবৃতি, অন্যদিকে মোদি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের বার্তা, ‘ভারতকে আত্মনির্ভরতার পথে হাঁটতে হবে। সেটাই একমাত্র পথ। আমদানি নির্ভরতা বহু সেক্টরে কমাতে চলেছি আমরা।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-বাণিজ্যে আমাদের আত্মবিশ্বাস এতটাই বেশি, অর্থনীতি শুধু যে বৃদ্ধি পাবে তাই নয়, ক্রমেই শক্তিশালী হবে। সুতরাং ধারা বজায় থাকছে। কী সেই ধারা? সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা যতই মনে করুন না কেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী শুল্কনীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়াটা ভারতের অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। সরকার কিন্তু সেই বাস্তব স্বীকার করতে রাজি নয়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ