নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেরিকা-ভারতের শুল্কযুদ্ধে কি অবশেষে ছেদ পড়তে চলেছে? বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে এমনই জল্পনা উস্কে দিলেন দেশের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তা শীঘ্রই ১৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে এদিন নাগেশ্বরণের ইঙ্গিত। নভেম্বরেই উঠে যেতে পারে ২৫ শতাংশ পেনাল্টি শুল্ক। যদিও এই পূর্বাভাসকে ব্যক্তিগত অনুমান আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তবু তাতেই আশার আলো দেখছে বাণিজ্যমহল। আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নতি হলে শেয়ারবাজারে তার সদর্থক প্রভাব পড়বে বলেও আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন স্বয়ং ট্রাম্পও। ব্রিটেন সফর চলাকালীন এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, ‘ভারত এবং মোদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। আমাদের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে।’ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সেই প্রসঙ্গেই ভারত সম্পর্কে তাঁর ওই মন্তব্য, যাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত নয়াদিল্লির। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আগস্ট মাস থেকে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ‘পেনাল্টি’ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প সরকার। তারপর দু’দেশের মধ্যে আর ব্যবসায়িক সমাধান খোঁজার আলোচনা হয়নি। সম্প্রতি দিল্লিতে সেই পর্ব নতুন করে শুরু হয়েছে। তারপর ট্রাম্পের মন্তব্য এবং নাগেশ্বরণের পূর্বাভাসকে শুল্ক সংক্রান্ত বরফ গলার সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই এদিন কলকাতায় একাধিক বণিকসভার অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ। সকালে বণিকসভা বিসিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ৮-১০ সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ট্যারিফ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশা করছি।’ ভারতে মার্কিন পণ্যের উপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপানো হয়—এই অভিযোগ তুলে ভারতীয় পণ্যের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরবর্তীকালে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে বসানো হয় আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক। ওই ‘পেনাল্টি’ আগামী ৮-১০ সপ্তাহের মধ্যে উঠে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নাগেশ্বরণ। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘৩০ নভেম্বরের মধ্যে ওই ‘পেনাল্টি’ শুল্ক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে তারপরেই।’ মার্কিন পণ্যের উপর ভারতীয় শুল্কের সামঞ্জস্য রেখে সেই হার ১৫ শতাংশ নেমে আসতে পারে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার সাবধানবাণী, ‘আমেরিকা যদি শুল্কে সুরাহা না দেয়, তাহলে এদেশের রপ্তানি বড় ক্ষতির মুখে পড়তে বাধ্য। তাতে দেশের আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্য যে রক্ষিত হবে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’
এদিন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ব্যাপারেও শিল্পমহলকে সাবধান করেন নাগেশ্বরণ। তিনি বলেন, ‘কাঁচামাল আমদানির জন্য চীনের উপর অতি নির্ভরতা ভালো লক্ষণ নয়। এটা কমানো উচিত বেসরকারি সংস্থাগুলির।’ শিল্পমহলকে এই ব্যাপারে আত্মনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, উন্নত অর্থনীতি গড়তে জিডিপিতে উৎপাদনের শিল্পের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়া দরকার।