ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেও রাশিয়ার থেকে তেল কেনা জারি রেখেছে ভারত। এর ফলে বুধবার থেকে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ হয়েছে ৫০ শতাংশ। এর জেরে বিপাকে ভারতীয় রপ্তানিকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই কেমিক্যাল, গয়না শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত রপ্তানিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রক। মার্কিন শুল্ক কাঁটা থেকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি কীভাবে তাঁদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে কেন্দ্রের কাছে সরকারি ঋণ, কর্মীদের পিএফ ও ইএসআইসি’র জন্য সহায়তা, ঋণ পরিশোধের নিয়মে পরিবর্তনের মতো সুবিধা চাইতে পারেন রপ্তানিকারীরা। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের তরফে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে এক বছরের ছাড় চাওয়া হয়েছে। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কীর্তি বনসালি জানান, এটা একটা বড় ধাক্কা। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসায় সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশে চামড়ার জুতো রপ্তানি বাড়ানো হতে পারে। হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিতে গয়না রপ্তানি ও চিংড়ি রপ্তানির জন্য চীন, জাপানের বাজারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল না কেনার ফতোয়া জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভারত তা না মানায় টানাপোড়েন শুরু হয় দু’দেশের মধ্যে। গত সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তরফে প্রকাশিত একটি খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়, বুধবার থেকে ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক নেওয়া হবে। তবে ২৭ আগস্টের আগে মার্কিন মুলুকে পাঠানো পণ্যে বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হবে না। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট ৭০টি দেশের উপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনাতেও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের স্বার্থের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না। চাপ আসলেও একসঙ্গে তা সামলে নেওয়া হবে।
এদিকে, ভারতের উপরে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটনের বিজনেস কনসাল্টিং ফার্ম ‘দি এশিয়া গ্রুপ’-এর সিনিয়র অ্যাডভাইসর মার্ক লিনস্কট। তাঁর মতে, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে উভয় দেশই লাভবান হতো। বর্তমানে দুই দেশই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, শুল্ক সংঘাত নিয়ে ভারতকেই দুষেছেন মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট। তিনিও রাশিয়া থেকে তেল কিনে বিক্রি করে ‘লাভ’ তোলার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। নয়াদিল্লি অবশ্য পাল্টা জানিয়েছে, আমেরিকার চাপানো শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’।
এই ৫০ শতাংশ শুল্কের প্রভাব ভারতের উপর কী পড়বে, তা নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত বাণিজ্য মন্ত্রকও। সূত্রের খবর, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ঘোষিত এক্সপোর্ট প্রোমোশন মিশনকে কীভাবে আরও গতি দেওয়া যায়, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে রপ্তানিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মন্ত্রকের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, গয়না, রত্ন, পোশাক, যন্ত্রাংশ ও সামুদ্রিক খাদ্যের উপরে এই নয়া শুল্কের বড় প্রভাব পড়বে। তবে ওষুধ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর উপরে কোপ পড়বে না।