Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ফের শুল্ক-হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ‘মোদি জানেন, আমাকে খুশি রাখা জরুরি’

একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক শয্যাকক্ষ থেকে রীতিমতো অপহরণ! তারপর নিজের দেশে নিয়ে এসে ব্রুকলিনের জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! এমন বেনজির ঘটনা ঘটিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শতকের সবথেকে আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী বার্তা দিয়েছেন।

ফের শুল্ক-হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ‘মোদি জানেন, আমাকে খুশি রাখা জরুরি’
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক শয্যাকক্ষ থেকে রীতিমতো অপহরণ! তারপর নিজের দেশে নিয়ে এসে ব্রুকলিনের জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! এমন বেনজির ঘটনা ঘটিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শতকের সবথেকে আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী বার্তা দিয়েছেন। এবং ইতিমধ্যেই বলেছেন, ‘আপাতত ভেনেজুয়েলা আমরা চালাব।’ ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রসংঘের সদস্য। অথচ এব্যাপারে রাষ্ট্রসংঘ নীরব। ট্রাম্প বস্তুত নতুন বছরে গোটা বিশ্বকে স্পষ্ট অঘোষিত বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি পৃথিবীর সম্রাট। সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কখনও কলম্বিয়া, কখনও কিউবা, কখনও গ্রিনল্যান্ডকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ফাঁকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ফের শীতল এক হুমকি দিলেন ভারতকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে বললেন, ‘নরেন্দ্র মোদি আমাকে খুশি করার জন্যই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। আমাকে খুশি রাখা যে অত্যন্ত জরুরি, সেটা মোদি জানেন।’ একইসঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধত্যে তিনি বলে ফেলেছেন, ‘মোদি ইজ আ গুড ম্যান। আমার ভালো বন্ধু। সেই কারণেই মোদি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আমি খুব অসন্তুষ্ট। আমাকে খুশি করা দরকার। আমি যে কোনও সময় আরও শুল্ক বাড়াতে পারি। ভারতকে বাণিজ্য করতে হয়। তারা জানে আবার বাড়তে পারে শুল্ক। সেই কারণেই আমাকে খুশি করার ওই সিদ্ধান্ত।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মিডিয়া যখন ভেনেজুয়েলা, কিউবা, কলম্বিয়া সম্পর্কে আমেরিকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করছে, তখন ট্রাম্প নিজেই ভারত প্রসঙ্গ তুলেছেন।

Advertisement

এখানেই শেষ নয়, ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে চরম বিব্রত করে ট্রাম্পের পাশে থাকা মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ‘এই তো এক মাস আগে আমি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ছিলাম। তিনি আমাকে বলছিলেন, ভারত তো রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এবার প্রেসিডেন্টকে বলুন না ভারতের উপর চাপানো অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে দিতে।’ গ্রাহামের দাবি, ‘এর অর্থ হল আমাদের চাপে কাজ হয়েছে।’ ট্রাম্পকে দেখা যায় সেকথা শুনে মাথা নেড়ে সমর্থন করতে। রাশিয়া থেকে যেসব দেশ তেল ক্রয় করে চলেছে, তাদের উপর আগামী দিনে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব আনা একটি বিল সম্প্রতি মার্কিন সেনেটে পেশ করা হয়েছে। শীঘ্রই ওই বিল পাশ হবে বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম।
ঠিক এমন সময়ে ট্রাম্প এই নয়া হুমকি দিয়েছেন, যখন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একঝাঁক চুক্তি হতে চলেছে। স্বয়ং ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লি সফরে সেই সমঝোতা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার কাছে অন্তত ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেলের ভাণ্ডার মজুত। সেদেশ থেকেও তেল আমদানি করে থাকে ভারত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প  হঠাৎ ভারতকে নতুন করে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করলেন কেন? ট্রাম্পের বিদেশনীতি কোনদিকে যাচ্ছে? 
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণ করেছে মোদিকে। দলের নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার, হাউডি মোদি, মাই ফ্রেন্ড ডোনাল্ডের আমেরিকা এভাবে ভারতের সম্মান ভুলুণ্ঠিত করছে কেন? আর চুপ করে এই অসম্মান, অপমান মোদিই বা সহ্য করছেন কেন? রহস্যটা কী? আমেরিকাকে কেন ভয় পাচ্ছেন মোদি?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ