নয়াদিল্লি: ইজরায়েল-ইরানের সংঘাতের আড়ালে কি উঁকি দিচ্ছে মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত? ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ যে একতরফা হবে না, তা শুক্রবারই বুঝিয়ে দিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের মাটিতে একের পর এক আছড়ে পড়েছে ইরানের ‘হজ কাসেম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা, ব্রিটেন বা ফ্রান্সের সেনাঘাঁটিগুলি কিন্তু তাদের পাল্লার মধ্যেই রয়েছে। ওই তিন দেশ ইজরায়েলের পক্ষ নিলেই ফল ভুগতে হবে। আর এই হুমকির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হল ‘বিস্ফোরণ’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘ইরানের উপর আক্রমণে আমেরিকার কোনও হাত নেই। কিন্তু আমেরিকার গায়ে যদি এতটুকু আঘাত লাগে, তাহলে ইরানকে ধ্বংস করে দেব। মার্কিন সেনা এমন শক্তি প্রয়োগ করবে, যা ইরান আগে কখনও দেখেনি।’ পরে অবশ্য ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সহজেই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাত থামিয়ে দিতে পারেন। নজর করার মতো বিষয় হল, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত নিয়েও একই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও সেই যুদ্ধ এখনও থামেনি। তাই যুদ্ধবিরতির থেকে অনেক বেশি আশঙ্কার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংঘাতের মেঘ। ইতিমধ্যে ইরানের গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এমনকী, ইরানের প্রধান শাসক খামেনেইকে হত্যার ছকও তারা কষেছে বলে সূত্রের খবর। তা আটকে দিয়েছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ব্রিটেন ও জার্মানি বার্তা দিয়েছে ইজরায়েলের পাশে থাকার। অন্যদিকে আবার ইরানের পক্ষ নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের হুথি জঙ্গিরা। এরপর আমেরিকা যদি ইরানের উপর আক্রমণ চালায়, তাহলে সংঘাত শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে গোটা পরিস্থিতি নির্ভর করছে ইজরায়েল ও ইরানের উপর। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আগে ইজরায়েলকে সংযত হতে হবে। তাহলে তাঁরাও আক্রমণ বন্ধ করবেন।’



