Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

‘আমেরিকার গায়ে এতটুকু আঁচ এলে ইরান ধ্বংস করে দেব’ ট্রাম্পের হুঙ্কারে মহাযুদ্ধের দামামা!

ইজরায়েল-ইরানের সংঘাতের আড়ালে কি উঁকি দিচ্ছে মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত? ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ যে একতরফা হবে না, তা শুক্রবারই বুঝিয়ে দিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের মাটিতে একের পর এক আছড়ে পড়েছে ইরানের ‘হজ কাসেম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

‘আমেরিকার গায়ে এতটুকু আঁচ এলে ইরান ধ্বংস করে দেব’  ট্রাম্পের হুঙ্কারে মহাযুদ্ধের দামামা!
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: ইজরায়েল-ইরানের সংঘাতের আড়ালে কি উঁকি দিচ্ছে মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত? ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ যে একতরফা হবে না, তা শুক্রবারই বুঝিয়ে দিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের মাটিতে একের পর এক আছড়ে পড়েছে ইরানের ‘হজ কাসেম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা, ব্রিটেন বা ফ্রান্সের সেনাঘাঁটিগুলি কিন্তু তাদের পাল্লার মধ্যেই রয়েছে। ওই তিন দেশ ইজরায়েলের পক্ষ নিলেই ফল ভুগতে হবে। আর এই হুমকির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হল ‘বিস্ফোরণ’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘ইরানের উপর আক্রমণে আমেরিকার কোনও হাত নেই। কিন্তু আমেরিকার গায়ে যদি এতটুকু আঘাত লাগে, তাহলে ইরানকে ধ্বংস করে দেব। মার্কিন সেনা এমন শক্তি প্রয়োগ করবে, যা ইরান আগে কখনও দেখেনি।’ পরে অবশ্য ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সহজেই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাত থামিয়ে দিতে পারেন। নজর করার মতো বিষয় হল, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত নিয়েও একই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও সেই যুদ্ধ এখনও থামেনি। তাই যুদ্ধবিরতির থেকে অনেক বেশি আশঙ্কার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংঘাতের মেঘ। ইতিমধ্যে ইরানের গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এমনকী, ইরানের প্রধান শাসক খামেনেইকে হত্যার ছকও তারা কষেছে বলে সূত্রের খবর। তা আটকে দিয়েছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ব্রিটেন ও জার্মানি বার্তা দিয়েছে ইজরায়েলের পাশে থাকার। অন্যদিকে আবার ইরানের পক্ষ নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের হুথি জঙ্গিরা। এরপর আমেরিকা যদি ইরানের উপর আক্রমণ চালায়, তাহলে সংঘাত শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে গোটা পরিস্থিতি নির্ভর করছে ইজরায়েল ও ইরানের উপর। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আগে ইজরায়েলকে সংযত হতে হবে। তাহলে তাঁরাও আক্রমণ বন্ধ করবেন।’

Advertisement

বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইজরায়েলের প্রাথমিক টার্গেট ছিল ইরানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষাকেন্দ্র। তেহরান তার প্রত্যুত্তর দিতেই ইরানের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করেছে তেল আভিভ। প্রধান লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডার সাউথ পারস এলাকা। শনিবার রাত থেকে কাতার সংলগ্ন ওই অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাউথ পারসের ফেজ-১৪ জোন। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় গ্যাস উত্তোলন। এছাড়া একটি জ্বালানি ভাণ্ডার ও তেহরান সংলগ্ন তেল পরিশোধনাগারেও আছড়ে পড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের পুলিস হেডকোয়ার্টারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, ইজরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংঘাত ইরানের বাইরে ছড়িয়ে দিতে চাইছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, ‘ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে পারস্য উপসাগর এলাকায় নতুন জটিলতা তৈরি হবে। প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারেও।’ তবে এরপরও যে আক্রমণের ঝাঁঝ কমবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে তেল আভিভ। ইরানের অস্ত্র কারখানার আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় যেতে বলেছে ইজরায়েলি সেনা। মনে করা হচ্ছে, এরপর ওই কারখানাগুলিকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা শুরু করেছে ইজরায়েল। এর মধ্যেই ইরানে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
ইরানের প্রত্যাঘাতে ইজরায়েলেও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়ছে। দু’দেশের লাগাতার মিসাইল হানার মধ্যেই রাতে রেড অ্যালার্ট জারি করে ইজরায়েল। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য চোকাতে হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ