নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ খরচ করে থাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই বিপুল অর্থ খরচের জেরেই দেশের সর্বাধিক সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত জুন মাসে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট করেছিলেন। পালটা ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদিও। এতদিন পরে সামনে এসেছে ট্রাম্পের প্রশংসার কারণ। ‘প্রিয় ডোলান্ড’ বলে মোদি যে প্রশংসা করেছিলেন, তার নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিগত সখ্য ছিল না। ছিল শুধুমাত্র লবি সংস্থার প্রভাব।
মার্কিন ‘লবিং ফার্ম’ মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রশংসার কৃতিত্ব দাবি করার পরই সরগরম দেশের রাজনীতি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে এই নিয়ে কটাক্ষ, ‘টাকা দিয়ে ট্রাম্পের থেকে নিজের প্রশংসা আদায় করছেন মোদি।’ কংগ্রেসের প্রশ্ন, এত কাঁড়িকাঁড়ি অর্থ খরচের বিনিময়ে ভারতের করদাতারা কী পাচ্ছেন? তবে যাবতীয় বিতর্ক বিদেশ মন্ত্রক উড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রকের সরকারি ফ্যাক্ট চেক এক্স অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, ‘এই পোস্ট বিভ্রান্তিকর। আমেরিকায় দূতাবাস বা লবিং সংস্থা নিয়োগ করা স্বাভাবিক ব্যাপার। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস এই ধরনের লবি সংস্থাকে নিয়োগ করছে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে রয়েছে। মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এলএলসি-র দাখিল করা নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে তারা শুধুমাত্র এক্স-এর পোস্টটি প্রচার করেছিল।’
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দু’টি মার্কিন লবিং সংস্থাকে ভাড়া করে মোদি সরকার। এর একটি ছিল মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স। এই সংস্থাকে মাসে ৭৫ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা দিয়ে থাকে কেন্দ্র। অন্য একটি লবিং সংস্থা এসএইচডব্লিউ পাটনার্স আবার দাবি করেছে, মে থেকে জুন মাসে ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের শীর্ষকর্তাদের আটটি বৈঠক করানো হয়েছে। এই সংস্থাকে মাসে দেড় লক্ষ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।



