নয়াদিল্লি: ‘ইরানের সামরিক শক্তি ১০০ শতাংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’ বুক ঠুকে এই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ শত হামলা চালিয়েও তেহরানের মুঠো থেকে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারেননি। বিফলে গিয়েছে নৌসেনা পাঠানোর হুঁশিয়ারিও। ফলে এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে যেতে ইরানের অনুমতির উপরই ভরসা করতে হচ্ছে প্রায় সব দেশকে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের বাজারে। চাপ বাড়ছে আমেরিকার উপরও। বেগতিক বুঝে মিত্র দেশগুলির কাছে সামরিক সাহায্যের আবেদন করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজল না। কোনো মিত্র দেশই ট্রাম্পের আবেদনে সাড়া দেয়নি। বরং জাপান ও ফ্রান্স স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা শুনে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। ব্রিটেন ও দক্ষিণ কোরিয়াও আপাতত জল মাপছে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে দায় সেরেছে চীন। দিল্লিরও একটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে কোনো সামরিক জোটে অংশ নেবে না ভারত। বন্ধু রাষ্ট্রগুলি এভাবে পিছু হটতে শুরু করায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প? সরাসরি যুদ্ধের বদলে কি তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উপরই জোর দিচ্ছে বাকি দেশগুলি? ট্রাম্পের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল ছাড়া হরমুজ সকলের জন্য খোলা।
এশিয়ার অন্য দেশগুলির সঙ্গে জলপথে যোগাযোগ রাখতে হলে ইরাক, কুয়েত, কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো প্রধান তেল উত্পাদনকারী দেশগুলির একমাত্র ভরসা হরমুজ প্রণালী। অথচ, এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইরানের হাতে। আমেরিকা-ইজরায়েল হামলা চালাতেই ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে ইরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছে তারা। কিছুদিন আগে আমেরিকাকে সাহায্যের জন্য রণতরী পাঠাতে চেয়েছিল ব্রিটেন। কিন্তু তখন ট্রাম্প তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে সাহায্য চাওয়ার পর ব্রিটেন জানিয়েছে, হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করা উচিত, তা নিয়ে মিত্র দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে সেখানে মাইন ধ্বংসকারী ড্রোন পাঠানো হতে পারে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র আবার জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে নির্বিঘ্নে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সব পক্ষেরই। ওই এলাকায় অশান্তি মেটাতে হবে। কিন্তু সামরিক সাহায্য পাঠানোর বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছে বেজিং।
গত কয়েকদিনে হরমুজ পেরিয়ে বেশ কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ভারতে পৌঁছেছে। ফলে তেহরানে সঙ্গে আর সংঘাতের পথে হাঁটতে চাইছে না ভারতও। কেন্দ্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম ভারত মহাসাগরে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত নিজের ক্ষমতায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এসেছে। তাই এখন হরমুজকে উন্মুক্ত করতে যদি জোট তৈরিও হয়, তাতে ভারত অংশ নেবে না। বরং ভারত অভিমুখী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে সমস্যায় পড়লে তাদের সাহায্যের জন্য পারস্য উপসাগরে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে দিল্লি।