ঢাকা, ২৪ আগস্ট: বাংলাদেশের রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অভিযুক্তরা সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়নি। বরং দীর্ঘ সময় মৃতদের বাড়িতেই থেকে খাওয়া-দাওয়া করেছে, স্নান করেছে এবং পরে এলাকা ফাঁকা হওয়ার সুযোগে সেখান থেকে পালিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ২৩ বছরের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তই চক্রবর্তী পরিবারের প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে রংপুরের মছুয়াপাড়ার চক্রবর্তী পরিবারের দোতলা বাড়ির ছাদে ওঠে। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিল। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে যান। সেখানেই অভিযুক্তরা তাঁকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ। এরপর একে একে পরিবারের বাকি তিন সদস্যকেও খুন করা হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর অভিযুক্তরা বাড়ির মধ্যেই রাত কাটায়। ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি বাথরুমে স্নানও করে তারা। তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোন নষ্ট করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার আরও তদন্ত চলছে।