ঢাকা: নির্মীয়মাণ বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিল দুই যুবক। তাতে বাধা দেওয়ায় নৃশংসভাবে খুন করা হল বাড়ির কর্তা, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রংপুর জেলায়। খুনে যুক্ত থাকার অভিযোগ ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রংপুরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় থাকতেন রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ও দুই সন্তান আগামী (২৫) ও আয়ূশ (১৩)। পরিবারকে নিয়ে বাড়িটির দোতলায় থাকতেন গণপতি। প্রথম ও তৃতীয় তলে ঘর তৈরির কাজ চলছে। রবিবার পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়ির তিনতলায় উঠে ইয়াবা খাচ্ছিলেন দু’জন। শব্দ পেয়ে গণপতি ছাদে গিয়ে তাঁদের বাধা দেন। ওই সময় দুই অভিযুক্ত গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাও ছাদে উঠছিলেন। কিন্তু, সিঁড়িতেই তাঁকে একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর আগামী ও আয়ূশকেও খুন করে তাঁরা। ইতিমধ্যেই সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুদ্ধ দাস (২৩) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু’জনে ওই এলাকারই বাসিন্দা। রবিবার ভোরে দখীগঞ্জ শ্মশান এলাক থেকে তাঁদের হেপাজতে নেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, পরিচয় আড়াল করতেই গোটা পরিবারকেই শেষ করে তাঁরা। শুধু তাই নয়, হাড়হিম করা হত্যার পর বেশ কয়েকঘণ্টা ওই বাড়িতেই ছিলেন সিদ্ধান্ত ও মুগ্ধ। সেখানেই স্নান করেন। ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খান। ফের ইয়াবা সেবন করেন। খুনের ঘটনা আড়াল করতে আলমারি ও ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে যায়। এদিকে, বৃহস্পতিবারের পর থেকে চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে কেউই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তার উপর শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে পচাগন্ধ বেরতে থাকে। খবর যায় পুলিশে। ভিতরে ঢুকতেই একে একে নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।



