ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: আবারও ধাক্কা ‘বন্ধু’ নরেন্দ্র মোদিকে। মঙ্গলবারই হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—‘রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য জরিমানা হবেই ভারতের। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাপাব আরও চড়া শুল্ক।’ সেই হুমকি সত্যি করেই বুধবার হোয়াইট হাউস জানিয়ে দিল ‘জরিমানা’র অঙ্ক। আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপছে ভারতের উপর। সেইমতো এগজিকিউটিভ অর্ডারে সই করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাম্পের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপছে ভারতীয় পণ্যে। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই ‘জরিমানা’র ঘোষণা। তা অবশ্য কার্যকর হবে ২১ দিন পর, ২৭ আগস্ট থেকে। অর্থাৎ, তখন মোট শুল্কের পরিমাণ হবে দ্বিগুণ, ৫০ শতাংশ। মার্কিন মুলুকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যা সর্বাধিক। বর্তমানে একমাত্র ব্রাজিলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেছেন ট্রাম্প। এদিন ভারতকেও বসালেন একাসনে। ট্রাম্পের এই নয়া ‘শুল্ক-মহাযুদ্ধ’ ঘোষণায় মাথায় হাত ভারতের রপ্তানি বাজারে। কর্মসংস্থানেও ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কা চরম।
বিষয়টি নিয়ে তড়িঘড়ি কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাফ জানানো হয়েছে, আমেরিকার এই পদক্ষেপ ‘অন্যায্য’ ও ‘অযৌক্তিক’। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ভারত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। তবে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের এই ধাক্কা এড়াতে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপের কথা সরকার ভাবছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরও আশঙ্কা, ট্রাম্পের চাপানো আমদানি শুল্ক ভারতীয় অর্থনীতির উপর কালো মেঘ ডেকে আনতে পারে। আর সেই কারণেই এদিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেছেন, ‘মার্কিন শুল্ক নিয়ে এই অনিশ্চয়তা রপ্তানিতে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তৈরি থাকতে হবে সব পরিস্থিতির জন্যই।’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আর্থিক ‘ব্ল্যাকমেল’। ভারতকে হেনস্তার চেষ্টা।
মাত্রাতিরিক্ত চড়া এই ‘ট্রাম্প-ট্যারিফে’র ফলে বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারত থেকে রপ্তানি করা গাড়ির যন্ত্রাংশ, পোশাক, চর্ম, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, ইস্পাত, কেমিক্যাল, ওষুধ ও মেডিক্যাল সরঞ্জামের বাণিজ্য। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে ইতিমধ্যেই ট্রাম্পকে পাল্টা আয়না দেখিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক থেকে পরিসংখ্যান দিয়ে দেখানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দেওয়া আমেরিকা নিজেও কীভাবে সার ও ইউরেনিয়াম সহ বিভিন্ন রুশ পণ্য আমদানি করে চলেছে।