নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারত ও পাকিস্তানের অঘোষিত যুদ্ধ আমেরিকাই মধ্যস্থতা করে থামিয়ে দিয়েছে। এই দাবির পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মীর সমস্যা সমাধানেরও ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন। শনিবার বিকেলে ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রশাসনের উদ্যোগেই এই সংঘাত থেমে গেল। রবিবার ট্রাম্প ফের ভারত ও পাকিস্তানকে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানিয়ে বললেন, এই দুই দেশের সঙ্গেই তিনি দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। এমনকী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা কাশ্মীর সমস্যার সমাধানেও তিনি মধ্যস্থতা করতে চান। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও একই সুরে বলেন, আপাতত সংঘাত বন্ধ হল। এরকমভাবেই এই দুই দেশের অন্য দীর্ঘদিনের বকেয়া ইস্যুগুলি নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।, নতুন মার্কিন সরকারের যে এটি অন্যতম এজেন্ডা, সেটাই প্রমাণ হচ্ছে।
কাশ্মীর সমস্যার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রবেশ করা আমেরিকার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু সিমলা চুক্তির সময় থেকেই ভারতের কঠোর অবস্থান হল, প্রথমত, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ রাজ্য। দ্বিতীয়ত কাশ্মীর সংক্রান্ত জটিলতার প্রশ্ন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। কারণ পাকিস্তান দখল করে রেখেছে কাশ্মীরের একটি অংশ। ভারত তৃতীয় পক্ষের কোনও মধ্যস্থতা মানবে না। এটা জেনেও ট্রাম্প রবিবার আচমকা এরকম একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দেওয়ায় নতুন করে আলোড়ন উঠেছে। কংগ্রেস এর বিরোধিতা করেছে। ভারত সরকারও রবিবার জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র আলোচনা হতে পারে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে। অন্য কোনও ইস্যুই আলোচনার যোগ্য নয়। আবার ভারতও কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মানবে না। কিন্তু এই বার্তা সরাসরি কোনও মন্ত্রকের আধিকারিক দেননি। সবটাই দেওয়া হয়েছে পরোক্ষে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, আজ না হয় কাল এ ব্যাপারে সরাসরি মুখ খুলতেই হবে মোদি সরকারকে।
আগামী কাল পশ্চিম এশিয়ায় আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরের আগেই ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতের অবসান চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইমতোই তিনি আসার প্রাক্কালেই হয়েছে যুদ্ধবিরতি। পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের সময় ট্রাম্পের অন্যতম এজেন্ডা হবে ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন নিয়ে আরব দুনিয়ার সবথেকে প্রভাবশালী তিন দেশের সঙ্গে কথা বলা। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় টার্মের শুরুতেই একদিকে যেমন সাম্রাজ্যবাদী ভাবমূর্তি প্রকট করছেন, তেমনি যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতেও উৎসাহ দেখাচ্ছেন। জেলেনস্কি এবং পুতিন কোনও আভাস দেননি, কিন্তু রবিবার ট্রাম্প জানিয়ে দেন, এবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ থামতে চলেছে। ১৫ মে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ইস্তানবুলে বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্পের পরবর্তী এজেন্ডা গাজা ও তেল আভিভের সহাবস্থান নিশ্চিত করা। ট্রাম্পের প্রকৃত লক্ষ্য কি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া?