Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সাহায্যের হাত বাড়াল আমেরিকা-ইউরোপ, কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ অন্তত ২৭০০, ২২৪ জনের দেহ উদ্ধার

কংক্রিটের স্তূপ। তার থেকে সাবধানে সরানো হল একটা ইট। কোথাও কান্নার শব্দ আসছে কি?

সাহায্যের হাত বাড়াল আমেরিকা-ইউরোপ, কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ অন্তত ২৭০০, ২২৪ জনের দেহ উদ্ধার
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বোগোটা: কংক্রিটের স্তূপ। তার থেকে সাবধানে সরানো হল একটা ইট। কোথাও কান্নার শব্দ আসছে কি? অন্ধকারে কিছু দেখা গেল? সোমবার রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার দিনভর এভাবেই চলল উদ্ধারকাজ। তাতেও খোঁজ নেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ জনের। উদ্ধার হয়েছে ২২৪ জনের দেহ। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০০।

Advertisement

সোমবারের ভূমিকম্পকেই বিগত দশকের সবচেয়ে ভয়ংকর বলে দাবি করছেন কলম্বিয়ার বাসিন্দারা। প্রাণের সন্ধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা, দমকলকর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবকরা। হাত মিলিয়েছেন স্থানীয়রাও। কালি শহরের বাসিন্দা ৪৩ বছরের কারমেন ইয়াসমিন গার্সিয়া এমনই একটি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তিনি জানান, তাঁদের দল একটি ধসে পড়া বাড়ি থেকে সাতজনকে বের করে আনে। তবে আরও চারজন এবং একটি কুকুর তখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিল। কুকুরটিই ক্রমাগত আঁচড় কাটছিল। সেই শব্দ শুনেই তাঁরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্পের মূল উৎস ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায়, মাটি থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। প্রায় ৪,৮০০ মানুষের বসবাস এই শহরে। স্থানীয় সময় সকাল সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কম্পন অনুভূত হয়। সোমবার রাত পর্যন্ত কলম্বিয়ার নাগরিকদের পরিচালিত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ২,৭০০-র বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা নয় বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। ভূমিকম্পে প্রায় ১,৬০০টি বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণ ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ঐতিহাসিক মানিজালেস ক্যাথিড্রালের কয়েকটি চূড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালি শহরের অন্যতম ব্যস্ত এক হাসপাতালের উপরের কয়েকটি তলা ভেঙে পড়ে। ওই অংশে শিশুদের ওয়ার্ড ছিল। কর্তৃপক্ষর দাবি, অস্থায়ীভাবে রাস্তাতেই চিকিৎসা শুরু করতে হয় অন্তত ৬০০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীর। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ চোকো অঞ্চল নিয়ে। দুর্গম এই এলাকায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এখনও তা স্পষ্ট নয়। একই অবস্থা পেরাইয়া অঞ্চলের। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই অন্তত ২১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।  ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা নিজে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। অশান্তির আশঙ্কায় কালি, আর্মেনিয়া ও মানিজালেসে নাইট কার্ফু জারি করা হয়। বিপদের দিনে কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। আমেরিকা ত্রাণ হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ডলার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট পরিষেবা সক্রিয় করেছে। এল সালভাদোর, মেক্সিকোও কলম্বিয়াকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ