ওয়াশিংটন: শুরুটা হয়েছিল মিনেসোটা দিয়ে। জুলাইয়ের শেষে সেখানকার কমপক্ষে ৩০টি পুরসভার জল সরবরাহ ব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়। কয়েকদিন পরেই এফবিআই জানায়, অন্তত সাতটি প্রদেশের জল সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে হ্যাকারদের ষড়যন্ত্র। তাদের কীর্তিতে সাময়িকভাবে বিপাকে পড়েন লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক। আকস্মিক এই সাইবার হামলায় কি ইরানের হাত রয়েছে? উঠছে প্রশ্ন। এরইমধ্যে তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান যুদ্ধের পাশাপাশি অতীতের ঘটনার কথাও উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্রের খবর, মিনেসোটার মতোই সাইবার হামলার সাক্ষী হয়েছে জর্জিয়া, নিউ জার্সি ও দক্ষিণ ডাকোটা। যদিও এই তিনটি প্রদেশ এফবিআইয়ের তালিকায় রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। শুরুতে এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। দাবি করা হয়েছিল, হ্যাকাররা ইরানের মদতপুষ্ট। যদিও এবিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি মার্কিন সরকার।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১ লক্ষ ৫২ হাজার সরকারি পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ১৬ হাজারের বেশি বর্জ্য জল শোধনাগার। পুরোটাই মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সুকৌশলে এই পরিষেবায় হামলা চালাচ্ছে হ্যাকাররা। এর জেরে সাময়িকভাবে সমস্যার মুখে পড়েন কয়েক লক্ষ নাগরিক। এটাই কি ছিল হামলার মূল উদ্দেশ্য? হোয়াইট হাউসের এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইতিমধ্যে দু’ভাগে বিভক্ত নাগরিকরা। এহেন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক পরিষেবা ব্যাহত হলে সরকারের প্রতি বিশ্বাস আরও কমবে। সেটাই হামলার প্রধান লক্ষ্য।’
ইতিমধ্যে ছ’মাসে পা দিয়েছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বারবার আলোচনায় বসেছে দু’পক্ষ। কোনো লাভ হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিরা পাঁচ মাসের যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাইছেন। এই ভাবনা সত্যিই আকর্ষণীয়। তাই আমিও ওদের থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। বোমা হামলার জন্য ওরা বিখ্যাত। এর জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’ ২০০০ সালে ইয়েমেনের একটি বন্দরে হামলার মুখে পড়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল। এবিষয়ে ট্রাম্পের বার্তা, ‘ইউএসএস কোলে মৃতদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গত ৫০ বছরে লক্ষ লক্ষ নিরীহ বিক্ষোভকারীকে খুন করেছে ইরান। তারও মাশুল গুনতে হবে।’