Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, মুখে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েও ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি ট্রাম্পের

মুখে বন্ধুত্বের বার্তা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। অথচ কাজের সময় আমেরিকার বিভিন্ন পদক্ষেপে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতকে।

চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, মুখে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েও ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি ট্রাম্পের
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মুখে বন্ধুত্বের বার্তা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। অথচ কাজের সময় আমেরিকার বিভিন্ন পদক্ষেপে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতকে। বৃহস্পতিবারই ব্রিটেন সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ভারত ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দুই দেশের সম্পর্কও খুব ভালো। অথচ তারপরেই ঘুরপথে ভারতের উপর চাপ তৈরি করল ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৮ সাল থেকে ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু এবার সেই ছাড়পত্র তুলে নিল তারা। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে তারা তেহরানকে একঘরে করতে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। এখন থেকে কোনও দেশ চাবাহার ব্যবহার করলে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে জলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পণ্য সরবরাহের জন্য চাবাহারের উপর নির্ভর করে দিল্লি। বন্দরের একাংশ এখন ভারতই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আমেরিকার নয়া নির্দেশিকায় ভারতের বাণিজ্য পরিকল্পনা ব্যাপক ধাক্কা খেতে পারে। 

Advertisement

ভারতের কাছে চাবাহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই ওই বন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করে দিল্লি। কিন্তু আমেরিকার চাপে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি বাতিল করে ভারত। কিন্তু ২০২৪ সালে চাবাহার নিয়ে ফের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক বন্দর আধুনিকীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকাও বরাদ্দ করে। ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড চাবাহারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এর গুরুত্ব বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই টার্মিনালে ৮০ লক্ষ টনের বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। কয়েক লক্ষ কন্টেনারও ওই টার্মিনালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। তালিবানরা নতুন করে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পর চাবাহারের মাধ্যমেই সেদেশে ত্রাণ পাঠিয়েছিল দিল্লি। এখন ভারতীয় সংস্থাগুলি ওই বন্দর ব্যবহার করলে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। ভৌগলিক দিক থেকেও এই বন্দর ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাবাহারের কয়েকশো কিলোমিটার দূরেই পাকিস্তানের গদর বন্দর। যেটি নিয়ন্ত্রণ করে চীন। চাবাহারকে যদি অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে ওমান সাগর এলাকায় ভারতের প্রভাবও বাড়বে। কিন্তু ভারত চাবাহার ব্যবহার করতে না পারলে, ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়তে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ