ওয়াশিংটন: পূর্ব ঘোষণা মতোই বুধবার মধ্যরাতে পাল্টা শুল্ক নীতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, বিদেশ থেকে আসা সমস্ত গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গেই স্পষ্ট করলেন, ভারতের উপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন তিনি। আমেরিকার পণ্যের উপর ভারত ৫২ শতাংশ শুল্ক চাপায়, তাই তিনি পাল্টা ২৬ শতাংশ শুল্ক চাপাতে চলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার খুব ভালো বন্ধু। কিন্তু আমাদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।’ চীনের ক্ষেত্রে এই পাল্টা শুল্কের হার ৩৪ শতাংশ। এই পাল্টা শুল্ক থেকে বাঁচার নিদানও দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘আমেরিকায় এসে পণ্য তৈরি করুন।’ তবে, আমেরিকায় ব্যবসা করতে হলে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতেই হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প কী ঘোষণা করবেন, সারা বিশ্বের মতো শঙ্কিত ছিল ভারতের শিল্পমহলও। কারণ এর আগেই মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট ভারত, চীন সহ কয়েকটি দেশকে ‘ডার্টি ১৫’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভও ২১টি দেশকে মার্কিন বাণিজ্যের পক্ষে বিপদ বলে উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। কিন্তু কোন কোন দেশের উপর ট্রাম্পের শুল্ক- খাঁড়া নামবে, তা নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা চলছে। সবমিলিয়ে সারা বিশ্বেই নজর হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের দিকে। ইতিমধ্যেই মার্কিন কৃষি পণ্যে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক নিয়ে ভারতের সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডার মতো দেশগুলিকেও মার্কিন পণ্যে চড়া হারে শুল্ক আরোপের জন্য নিশানা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরই শুল্ক নীতি কার্যকর হয়ে যাবে।
এই শুল্ক-যুদ্ধ নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের অন্দরে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে কানাডার উপর জারি শুল্ক খারিজের প্রস্তাব এনেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর টিম কাইনের ওই প্রস্তাব এনেছেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘রিপাবলিকান সহকর্মীদের শুধু তাঁদের অস্বস্তির বিষয় নিয়ে সরব হওয়ারই নয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুযোগ করে দিচ্ছি।’ এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ট্রাম্পের রিপাবলিক দলের সদস্যদের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে প্রতিপক্ষ শিবির। বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ মার্কিন শেয়ার বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এই ঘটনা রিপাবলিকানদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। যদিও রিপাবলিকান নেতাদের একটা বড় অংশই এখনও ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পক্ষে। তাছাড়া রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই নীতি ঠিক তার উল্টো। এই পরিস্থিতিতেই কানাডার পণ্যের উপর শুল্কর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের দাবি, এতে বাড়ি তৈরি, যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও বাড়বে।