ওয়াশিংটন, ২০ আগস্ট: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য একটাই। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ থামানো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প একটাই কথা বলেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ তিনিই থামাতে পারেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই সেটা করে দেখাবেন। যদিও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। যুদ্ধ চলছেই। তাই অন্য উপায় বাতলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ছক রয়েছে ট্রাম্পের। তাই রাশিয়ার থেকে যে দেশ জ্বালানি তেল কিনছে তাঁদের উপর চড়া হারে শুল্ক চাপাচ্ছেন। তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর শুল্ক চাপিয়ে আদপে মস্কোকেই চাপে ফেলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঠিক সেই কারণেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এমনটাই দাবি করলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিয়াভেট।
তিনি জানিয়েছেন, ‘দেখুন, এই দুই দেশের যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে মানুষের প্রচুর প্রত্যাশা রয়েছে প্রেসিডেন্টের উপর। সেই কারণেই তিনি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভারতের মতো দেশগুলির উপর চড়া শুল্ক চাপিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা লাগু করছেন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে দুই দেশকে।’ ট্রাম্পের যুক্তি, ভারত, রাশিয়ার থেকে প্রচুর জ্বালানি তেল কিনছে বলে মস্কোর অর্থনীতি মজবুত হচ্ছে। তাতে তাঁরা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ সহজেই চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যারোলিন আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধটি শেষ হোক। যে বৈঠকটি হল হোয়াইট হাউসে, তাতে উপস্থিত থাকা ইউরোপের রাষ্ট্রনেতা থেকে শুরু করে ন্যাটোর সাধারণ সম্পাদক মনে করেছেন, এটা ভালো পদক্ষেপ। আর খুব শীঘ্রই রাশিয়া ও ইউক্রেনের দুই রাষ্ট্রনেতা একসঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেটা খুবই ভালো বিষয়। প্রেসিডেন্ট মনে করছেন দ্রুতই সেই ঘটনা ঘটবে।’
অর্থাৎ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর কারণ হিসেবে ঘুরপথে রাশিয়াকেই দায়ী করল আমেরিকা। গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় বৈঠকে বসেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেও ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তাতে আভাস পাওয়া যায় নয়াদিল্লির উপর আর নতুন করে শুল্ক চাপাবে না ওয়াশিংটন।