ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির আবহে সামনে এল আমেরিকা-ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত এক খসড়া চুক্তি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হতে পারে। বিনিময়ে আমেরিকা ইরান সংলগ্ন অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমাবে। তবে ওই দাবি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউস পুরো বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেয়। এক্স হ্যান্ডেলে হোয়াইট হাউস জানায়, ‘ইরান-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদন সত্য নয়। তারা যে খসড়া চুক্তি প্রকাশ করেছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।’
কেটে গিয়েছে তিন মাস। এখনও থামেনি যুদ্ধ। থামার লক্ষণও নেই। বৈঠকের আয়োজন হলেও শান্তি চুক্তি হয়নি। কারণ একে অন্যের শর্ত মানতে নারাজ আমেরিকা-ইরান। তবে হরমুজ স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে তার নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকবে। তেল-জ্বালানির দাম বাড়বে আরও। এই আবহে নতুন এক খসড়া চুক্তি সামনে রেখে ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি করে, হরমুজে মার্কিন সেনা কমানো হবে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরানি সংবাদ সংস্থার দাবি, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন শুধু যুদ্ধ চলাকালীন মোতায়েন করা সেনা সরাবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটিগুলিতে থাকা সেনা উপস্থিতিও কমাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খসড়া কাঠামোয় বলা হয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে তা পরে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসাবেও গৃহীত হতে পারে। অর্থাৎ খসড়া চুক্তির দাবি সত্যি হলে আগামীতে হরমুজ স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোবে। তবে আমেরিকা যেভাবে বিষয়টা ভুয়ো বলে উড়িয়েছে, তাতে জটিলতা কমার লক্ষণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের জেরে ওয়াশিংটনের উপর চাপও ক্রমশ বাড়ছে।