


ওয়াশিংটন ও রিয়াধ: ইরান যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে আমেরিকা। যা দু’সপ্তাহ আগে দেওয়া আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় তা প্রায় ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা রিপোর্টে এই তথ্য দিয়েছে পেন্টাগন। ইতিমধ্যে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে তোপের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ক্ষুব্ধ আম জনতা। অভিযোগ, যুদ্ধের আসল খরচ লুকিয়ে রাখছে পেন্টাগন। ব্যয় কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। এহেন অবস্থায় হোয়াইট হাউসের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবের একাধিক অঞ্চলে হামলা চালায় ইরান। সূত্রের খবর, জবাবে মার্চের মাঝামাঝি পালটা আক্রমণে নামে রিয়াধের বায়ুসেনা। পরে অবশ্য কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘর্ষ থামানোর সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াধ-তেহরান।
কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই তেহরানে অপারেশন চালায় ওয়াশিংটন। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দু’পক্ষ। মার্কিন যুদ্ধ আইন অনুযায়ী, ফের অভিযান চালানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বহাল। এই পরিস্থিতিতে ফের যুদ্ধক্ষেত্রে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তার আগেই যুদ্ধের বিপুল খরচ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ল পেন্টাগন। মঙ্গলবার বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মুখ্য পরামর্শদাতা তৃতীয় জুলস হার্স্ট। তিনি বলেন, ‘গত ২৯ এপ্রিল জানানো হয়েছিল, যুদ্ধে আনুমানিক আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, খরচের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। সমরাস্ত্র মেরামত ও ক্রয়ের জন্য এই টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অভিযান পরিচালনার খরচ।’ হেগসেথ জানান, যুদ্ধের খরচ প্রস্তাবিত বাজেটকে ছাপিয়ে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে চেপে ধরে বিরোধীরা। ডেমোক্র্যাট নেত্রী রোসা ডিলাওরো বলেন, ‘সব শেষে আমরা কতটা অর্জন করতে পেরেছি? এর জন্য কী হারাতে হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাব চাই।’ সেনেটেও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে পেন্টাগন। সেখানে ডেমোক্র্যাট নেতা প্যাটি মারে বলেন, ইরানের হামলায় সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেয়নি প্রশাসন।