


ওয়াশিংটন ও বেজিং: ইটের বদলা পাটকেলে! তুমুল শুল্ক-যুদ্ধের স্মৃতি এখনও অতীত হয়নি। তার উপর আবার ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম আগুন। বিশ্ব-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে জোড়া ধাক্কার আবহেই এবার আলোচনার টেবিলে দুই ‘সুপার পাওয়ার’। দু’দিনের বেজিং সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর আসন্ন বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ওয়াশিংটন থেকে রওনা দেওয়ার আগে হাই-ভোল্টেজ এই সফরের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যই মোদ্দা বিষয়। সেই লক্ষ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে যাচ্ছে মার্কিন বাণিজ্য ও শিল্পকর্তাদের ঢাউস টিম। তবে ব্যবসা অগ্রাধিকার হলেও ইরান ইস্যু কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে তুলতে রাজি নন ট্রাম্প। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়বস্তুতে চার দফার ‘লক্ষ্মণরেখা’ টেনেছে চীনও। আমেরিকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৪টি বিষয়কে কোনোভাবেই ছোঁয়া যাবে না।
চীনের আপত্তি তোলা সেই চার লক্ষ্মণরেখা কী কী? এক্স হ্যান্ডলে চীনা দূতাবাস থেকে রীতিমতো গ্রাফিক পোস্ট করে সেই তালিকা স্পষ্ট করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তাইওয়ান সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন চলবে না। আলোচনায় তোলা যাবে না গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি। এড়াছা রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও চীনের উন্নয়ন সংক্রান্ত অধিকারগুলিকে এই আলোচনার অংশ করা যাবে না। আর চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমরা বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তবে সব কিছুকে যা ছাপিয়ে যাবে, সেটি হল বাণিজ্য।’ চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর খুবই মনোগ্রাহী হতে চলেছে। ইরান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্যের ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং এই আলোচনায় যে ইরান প্রসঙ্গ উত্থাপনে তিনি বিন্দুমাত্র রাজি নন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের অনেক কিছুই আলোচনা করার আছে। তবে সত্যি কথা বলতে, তার মধ্যে ইরান নেই। কারণ, ইরান পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ইরান নিয়ে আমাদের কোনো সাহায্যের দরকার নেই। যেভাবেই হোক আমরা জিততে চলেছি।’
ট্রাম্পের এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে চীনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির, এরিক ও লরা ট্রাম্প সহ অন্যান্যরা। ট্রাম্পের এই সফরের অংশ হিসাবেই বেজিং আসছেন আমেরিকার শীর্ষ কোম্পানিগুলির সিইওরাও। এজন্য হোয়াইট হাউস থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন এলন মাস্ক (টেসলা), টিম কুক (অ্যাপল), ল্যারি ফিঙ্ক (ব্ল্যাকরক) ও কেলি অর্টবার্গ (বোয়িং)। এছাড়াও জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে থাকতে চলেছেন আরও একঝাঁক মুখ। সেই দলে থাকছেন মাইক্রন টেকনোলজির ভারতীয় বংশোদ্ভূত শীর্ষ আধিকারিক সঞ্জয় মালহোত্রা।