


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে টালমাটাল বিশ্বের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আমদানি নির্ভর পণ্য ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে কেন্দ্রের আশ্বাস, এখনই কোনো কড়াকড়ি জারি হচ্ছে না। যদিও ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকট ঠেকাতে যান চলাচলের রাশ, ফুয়েল রেশনিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে বিশেষ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
আইএএ ট্রাকারের তথ্য বলছে, ইউরোপিয়ান কমিশন সহ বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার সংকোচনের পক্ষে হেঁটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে রাশ টানা হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে গণপরিবহণ ও বিদ্যুৎ চালিত যান ব্যবহারে। বিদেশ যাত্রা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। রাত আটটার পর সেদেশে দোকান-বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জমায়েতের ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে একই নিয়ম। বাংলাদেশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে গাড়ি পিছু জ্বালানির পরিমাণ। সরকারি অফিসে জোড়-বিজোড় নীতি চালু করেছে কোরিয়া।
কোভিড কালের মতো ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অনলাইন ক্লাস ফিরে এসেছে বহু দেশেই। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপিন্স, ফিয়েতনাম, পেরু, মিশর, থাইল্যান্ড সহ একাধিক দেশে সরকারি অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও একই পথে হাঁটার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। আবার লাওসে সপ্তাহে মাত্র তিনদিন চলছে ক্লাস। পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, মালেশিয়া, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলি আবার অফিস ও সরকারি ভবনগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। সরকারি অফিসে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে জর্ডন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানির জরুরি অবস্থা জারি করেছে মাদাগাস্কার (১৫দিন), মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ (৯০ দিন), তুভ্যালু ( প্রতি দ্বীপে ২ সপ্তাহ) সহ একাধিক দেশ। রাস্তায় আলোর সংখ্যা কমানোর পথে হেঁটেছে থাইল্যান্ড সরকার। অন্যদিকে সিলিন্ডারে রান্নার গ্যাস কমিয়ে অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ ও নেপাল। যাবতীয় বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে মিশর ও শ্রীলঙ্কা।