সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ার ভবানীপুরে পণ্যবোঝাই গাড়ি সহ একটি ছিনতাইকারী দলকে পুলিস হাতেনাতে পাকড়াও করার পরই, ফের ভোজ্য তেল বোঝাই গাড়ি নিয়ে চম্পট দিল অন্য এক ছিনতাইকারী দল। স্টিলের কয়েল বোঝাই গাড়ির নম্বর প্লেট পাল্টে ছিনতাই করতে গিয়ে তিনজন ভবানীপুর থানার পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। ওই ঘটনার ঠিক পরই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার ভোজ্য তেল বোঝাই একটি ট্রাক। হলদিয়া থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় গায়েব হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। পণ্য পরিবহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এপিজে ইনফ্রা লজিস্টিকস ভবানীপুর থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছে। দু› দিন আগেই হলদিয়া বন্দর থেকে নেপালে রপ্তানি হওয়ার সময় তিনটি ট্রাক সহ ১০০ টন দামি বিদেশি কয়লা মাঝপথে উধাও হয়েছে। হলদিয়া থানার পুলিস ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় তল্লাশি চালাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই ছিনতাইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আদানির ভোজ্য তেলের ট্রাক গায়েব হওয়ার ঘটনায় শিল্পশহরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এনিয়ে গত চার মাসে ৭টি পণ্য বোঝাই ট্রাক উধাও হওয়ার অভিযোগ হয়েছে বন্দর শহরের বিভিন্ন থানায়। একের পর এক ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় কার্যত নাজেহাল হলদিয়ার পুলিস প্রশাসন।পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়ার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চকদ্বীপায় এপিজে ইনফ্রা লজিস্টিকসের গোডাউনে আদানি উইলমার সংস্থার ভোজ্য তেল মজুত থাকে। সেখান থেকে একটি ট্রাক ২৩ টন ভোজ্য তেল নিয়ে শিলিগুড়ির জেপি এন্টারপ্রাইজে সরবরাহ করতে যাচ্ছিল। পণ্যের মূল্য ৩৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। এপিজে সংস্থা আদানির পণ্য স্টোরিং, হ্যান্ডেলিং ও ট্রান্সপোর্টিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে। দু› দিনের মধ্যে ওই পণ্য পৌঁছনোর কথা। কিন্তু ১০ দিন পরও সেই পণ্য গন্তব্যে না পৌঁছনোয়, মাঝরাস্তায় তা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে এপিজে। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গাড়ির মালিক, ড্রাইভার সহ ৯ জনের নামে ওই সংস্থা অভিযোগ করেছে। অভিযোগ, রাস্তায় গাড়ির চাকা ফেটে যাওয়ার অজুহাতে কোনও অজ্ঞাত জায়গায় দাঁড় করানো ছিল। বার বার ফোন করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সকলের ফোনই ‹সুইচড অফ› হয়ে যায়। ভবানীপুর থানার ওসি ইমরান মোল্লা বলেন, এই ঘটনার পিছনে নতুন একটি চক্র রয়েছে। এরা ভবানীপুর থানা এলাকার নয়। অন্য জায়গা থেকে এসে ক্রাইম করছে। তবে ভবানীপুর থানা এলাকার চক্রের পাণ্ডাদের পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা পুরনো কয়েকটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সঙ্গে যুক্ত বলে স্বীকার করেছে।



