নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এ যেন সেই বলিউডি সিনেমার চিত্রনাট্য} আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশের ‘সোর্স’কে খুন করার ছক কষল জেলবন্দি ভিলেন। শাগরেদদের দিয়ে গাড়ির ধাক্কায় সেই সোর্সকে উড়িয়ে দেওয়ার ‘ফুলপ্রুফ’ পরিকল্পনা। সন্দেশখালির স্বঘোষিত ‘বাদশা’ শেখ শাহজাহান সিবিআইয়ের ‘সোর্স’ ভোলানাথ ঘোষকে ‘খতম’ করার ছক করলেও, নিয়তি বাঁচিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। শুধুমাত্র গাড়ির চালকের পাশের আসনে না বসার কারণেই ট্রাকের ধাক্কায় জখম হলেও, বেঁচে গিয়েছিলেন ভোলানাথবাবু। তবে হারিয়েছেন ছোট পুত্র সত্যজিৎ সহ গাড়ির চালককে।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল ভোলানাথ ঘোষ খুনের ছক? তদন্তকারীরা বলছেন, জেল থেকে শাহজাহানের ‘সবুজ সংকেত’ মেলা মাত্রই তৎপর হয়ে ওঠে শাগরেদরা। ঠিক হয়, বসিরহাট আদালতে যাওয়ার পথে ‘খতম’ করা হবে ভোলানাথবাবুকে। টার্গেট ডেট বুধবারের দিন তিনেক আগে গোপন বৈঠকে বসেছিল শাহজাহানের চ্যালা-চামুণ্ডারা। ফের মঙ্গলবার রাতে সরবেড়িয়ার গোপান ডেরায় তা ঝালিয়ে নিতে বৈঠক করেছিল ঘাতক ট্রাকের চালক সন্দেশখালিতে সিবিআই মামলায় অভিযুক্ত আলিম মোল্লা, ঘাতক ট্রাকের বর্তমান মালিক নজরুল মোল্লা, গফফর শেখ ও মোসলেম শেখের মতো ‘কোর টিমের’ আটজন সদস্য। ঠিক হয়, লাউখালির দিক থেকে দুরন্ত গতিতে ট্রাক ছুটিয়ে সোজা ধাক্কা মারা হবে ভোলানাথবাবুর গাড়িতে। এরপর ট্রাক ফেলে পালাবে আলিম। ঠিক যে জায়গায় ট্রাক ছেড়ে পালাবে আলিম, সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়্যার জন্য আগেই থেকেই অপেক্ষা করছিল শাহজাহানের আরেক শাগরেদ। তার মোটর সাইকেলে চেপে আলিমকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তকারীরাও জেনেছেন বিষয়টি। এই পর্বেই একাধিক সিসি ক্যামেরারা ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। যদিও এখনও অধরা আলিম সহ আটজন অভিযুক্ত।
সুত্রের খবর, ঘাতক ট্রাকের বর্তমান মালিক হলেও এখনও নজরুল মোল্লার নামে কাগজপত্র তৈরি হয়নি। রেজিস্ট্রেশন এবং সার্টিফিকেট ফিটনেস ফেল থাকা ট্রাকটি রাখা ছিল সরবেড়িয়া লাগোয়া একটি পার্কিং জোনে। টার্গেট ডেটের আগের দিন রাত ১টা নাগাদ ট্রাকটি সেখান থেকে নিয়ে যায় নজরুল। কলুপাড়া লাগোয়া শাহজাহানের এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনে গাড়িটি পার্ক করা হয়। গাড়িতেই রাত কাটায় নজরুল। এরপর বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ কলুপাড়ার পার্ক করে ট্রাকের কাছে পৌঁছে যায় আলিম। স্থানীয় ওই সূত্রটি জানিয়েছে, সেখানে ট্রাকে বসে অপেক্ষা করছিল আলিম। মোটর সাইকেল নিয়ে প্রতীক্ষায় ছিল নজরুল। ভোলানাথবাবু বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই খবর পৌঁছে যায় আলিম-নজরুলের কাছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরবেড়িয়া বাজার পার করা মাত্রই ভোলানাথবাবুর গাড়িটি অনুসরণ করছিল বাইক আরোহী দু’জন। বাইকের পিছনের সিটে বসা এক ব্যক্তি মোবাইলে কথা বলছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই ব্যক্তি ভোলানাথবাবুর গাড়ির অবস্থান জানাচ্ছিল আলিমকে। সূত্রের খবর, খবর পেয়েই ট্রাক নিয়ে রওনা দেয়আলিম। তার পিছনে মোটর সাইকেলে আসছিল নজরুল মোল্লা। বয়ারমারি ঘোষপাড়ার কাছে ভোলানাথবাবুর গাড়িকে ধাক্কা মেরে নজরুলের মোটর সাইকেলে চেপে যে আলিম পালিয়েছে, সে বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।