Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তীর্থপথে জমে আবর্জনার স্তূপ, তারাপীঠে দুর্গন্ধ নিয়ে পুণ্যার্থীরা ক্ষুব্ধ

তীর্থপথে জমে আবর্জনার স্তূপ, তারাপীঠে দুর্গন্ধ নিয়ে পুণ্যার্থীরা ক্ষুব্ধ
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তার দু’ধারে চোখে পড়বে নোংরা আবর্জনার স্তূপ। সেই আবর্জনা পেরিয়ে পথ চলতে হয় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। তারাপীঠের মতো তীর্থভূমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকায় পুণ্যার্থীদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অথচ কয়েকহাত দূরে আটলা গ্রামে যাওয়ার রাস্তার ধারে খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প রয়েছে, যা পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছে। এই অবস্থায় সেখানেই তারাপীঠের পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা ব্যবহার করে প্রকল্পটি চালু করা গেলে তীর্থভূমির সমস্যা দূর হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন।  
Advertisement
প্রতিদিন কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয় এই তীর্থভূমিতে। তাঁদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, থার্মোকল ও শালপাতার থালা, বাটি, জলের বোতলে এলাকা ভরে যায়। এছাড়া রয়েছে কয়েকশ লজ ও রেস্টুরেন্টের আবর্জনা। ভ্যাট থাকলেও তা উপচে পড়ে। আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ডও নেই। 
ফলে, তারাপীঠ ঢোকার মুখে রাস্তার ধারে আবর্জনার পাহাড় জমে রয়েছে। তাতে দূষণ ছড়াচ্ছে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় পুণ্যার্থীদের। সিদ্ধপীঠকে আবর্জনামুক্ত করতে এরআগে একাধিকবার টিআরডিএর বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জায়গা পাচ্ছে না তারা। একবার মল্লারপুর যাওয়ার রাস্তার ধারের খাস জমিতে আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। গ্রামবাসী আপত্তি তোলায় সেখানে অবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে রামপুরহাটের কালীডাঙা গ্রামের কাছে পরিত্যক্ত খাদানে সেই আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। সেখানেও একই কারণে নোংরা ফেলতে বাধা দেন গ্রামবাসী। স্বভাবতই বিপাকে পড়ে টিআরডিএ। বাধ্য হয়ে আটলা তিনমাথা মোড়ে রাস্তার ধারে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। 
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখানে আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা নেই। রাস্তার পাশে ছোট ভ্যাট রয়েছে। তাতে জমে থাকা আবর্জনা থেকে দূষণ ছড়ায়। অনেক সময় দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে ওঠে। অথচ বছর দু’য়েক আগে রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে আটলা মোড়ে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে সরকারি প্রায় ১০ কাঠা জমির উপর সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে উঠলেও বর্তমানে তা বন্ধ।
পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা লেট বলেন, প্রথমদিকে একটি সংস্থা প্রকল্পটি চালাচ্ছিল। সারও উৎপাদন হচ্ছিল। কিন্তু অনেকদিন হল তারা ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছে। স্বনির্ভর দলগুলি দিয়ে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দলই রাজি হচ্ছে না। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় অনেকেই চাইছেন টিআরডিএ প্রকল্পটি অধিগ্রহণ করুক। তাহলে তারাপীঠ যেমন আবর্জনা মুক্ত হবে, তেমনই সরকারের ভাবনা বিফলে যাবে না। যদিও টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, আটলা মোড়ে বন্ধ থাকা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিকস্তরে কথাবার্তা চলছে। যদিও অল্প জায়গা নিয়ে প্রকল্পটি। তবুও সেটা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ