Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রাস্টের আড়ালে সাইবার জালিয়াতি শুরু করেছিল ধৃত অভিষেক

ট্রাস্টের আড়ালে সাইবার জালিয়াতি শুরু করেছিল ধৃত অভিষেক
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একবছর আগে শিলিগুড়িতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করেছিল রাজ্য পুলিসের হাতে ধৃত সাইবার জালিয়াতির অন্যতম পান্ডা। ধৃতের নাম অভিষেক বানসাল। অভিযোগ, চ্যারিট্যাবল ট্রাস্টের আড়ালে সে অনলাইন প্রতারণার টাকা লেনদেন করত। রাজ্য পুলিসের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের হাতে অভিযুক্ত ধরা পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস। তারা ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে। এজন্য কলকাতায় গিয়ে তারা ধৃতকে জেরাও করতে পারে। 
Advertisement
শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, রাজ্য পুলিসের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের হাতে ধৃত ব্যক্তি শিলিগুড়ির বলে শুনেছি। এখানকার একটি ঘটনাতেও সে অভিযুক্ত। এ ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
রাজ্য পুলিসের হাতে ধৃত অভিষেক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ)। একবছর আগে তার ডেরায় হানা দিয়ে প্রচুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এটিএম কার্ড, চেকবুক ও আধারকার্ড সহ দু’হাজারেরও বেশি নথি বাজেয়াপ্ত করে শিলিগুড়ি পুলিস। সেই ঘটনার পর সে গা ঢাকা দেয়। দুবাইতে পাড়ি দেয় বলে জানা যায়। বহু চেষ্টা করেও শিলিগুড়ি পুলিস অভিযুক্তর নাগাল পায়নি। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিসের সাইবার ক্রাইম উইং অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। সেই খবর পেয়ে ধৃতকে হেফাজতে নিতে শিলিগুড়ি পুলিস প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ১৭ ডিসেম্বর মাটিগাড়া থানার নতুনপল্লির একটি চ্যারিট্যাবল ট্রাস্টে হানা দিয়ে অভিষেকের তিন সাগরেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুনপাড়ায় তিনতলা ভবনে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের অফিস ছিল। সেখান থেকে ১০০টির মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ২০০টি বিভিন্ন কোম্পানির রবার স্ট্যাম্প, প্রচুর এটিএম কার্ড, চেক বুক, আধারকার্ড সহ বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। সবমিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর সংখ্যা ছিল দুই হাজারেরও বেশি। 
ওই ঘটনা নিয়ে পুলিস জানিয়েছি, স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার গরিব মানুষের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলত। এজন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গরিব মানুষের মগজ ধোলাই করত। তাতে কাজ না হলে কিছু টাকার টোপ দিয়ে তাদের নামে খোলা হতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। যা নিয়ন্ত্রণ করত ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। তারা মূলত সাইবার প্রতারণার কোটি কোটি টাকা অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে লেনদেন করত। যা অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিকরা টেরই পেতেন না।  
সম্পর্কিত সংবাদ