Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার তিনজন

তারাপীঠের হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার তিনজন
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: তারাপীঠের হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতারণার ছক কষেছিল খড়গ্রামের ভুয়ো ঋণ প্রকল্পের ধৃতরা। শীতের পোশাক বিক্রেতা হয়েও তারা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই তারাপীঠে হোটেল ভাড়া নিয়ে ভুয়ো কোম্পানি খুলে মহিলাদের কাছ থেকে টাকা তুলতে শুরু করেছিল ধৃতরা। তাদের সকলেই অল্পশিক্ষিত ও দিনমজুর হলেও মাত্র কয়েকদিনেই বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় পসার জমিয়ে ফেলেছিল প্রতারকরা। একটি মাইক্রো ফিন্যান্স কোম্পানির নামে ভুয়ো ঋণের টোপ দিয়ে মহিলাদের কাছ থেকে দেদার টাকা তুলত। ধৃতরা হল অশোককুমার সিংহ, হেমন্ত বাসু ও গোপাল মণ্ডল। প্রথম দু’জনের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার দত্তপুকুর থানার করকদম্বগাছি গ্রামে। ধৃত গোপালের বাড়ি দত্তপুকুর থানার পূর্ব ইছাপুরে। গত ১২ জানুয়ারি প্রতারণার সময় খড়গ্রাম থানার কান্দুরি গ্রামে ধৃতদের পুলিস হাতেনাতে ধরে ফেলে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি ধৃতরা আধার কার্ডের সঙ্গে ২০০০ টাকা জমা করলেই মিলবে ৫০ হাজার টাকার ঋণ। এই টোপ দিয়ে মহিলাদের থেকে টাকা তুলছিল। প্রতারকরা একটি ভুয়ো অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করছিল। একটি নকল মাইক্রো ফিন্যান্স কোম্পানির পরিচয় দিয়ে এই কাজ চলছিল। এরপর পুলিস ধৃতদের গ্রেপ্তার করে কান্দি মহকুমা আদালতে তুললে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এরপর জেরায় রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো তথ্য উঠে আসে। ধৃতদের তিনজনেই আগে কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করত, কেউবা ছিল রং মিস্ত্রি। বেশিদূর পড়াশুনা জানে না কেউই। সকলেই অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ। নিজেদের ওই পেশা ছাড়াও কয়েকবছর ধরে শীতকালে তারাপীঠ এলাকায় শীতের পোশাক বিক্রি করতে আসত। প্রত্যেকের বাড়ি বস্তি এলাকায়। পরিবারের অবস্থাও ভাল নয়। একজনের দু’টি ছোট সন্তানও রয়েছে। এমনকী নিজেরাও বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে গ্রুপ লোন নিয়েছে।
আর এই গ্রুপ লোন থেকেই ধৃতদের মাথায় প্রতারণার ছক তৈরি হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারির ৮ তারিখে হাওড়া থেকে ট্রেনে প্রত্যেকে তারাপীঠে আসে। এরপর তারাপীঠের একটি হোটেলে ঘর ভাড়া নেয় সকলে। পরদিন থেকেই এলাকায় ব্যবসা শুরু করে। এ-সাগর ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড নামের ভুয়ো কোম্পানি খুলে এম পকেট নামের অ্যাপে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছিল। খড়গ্রাম থানা সহ বীরভূমের কয়েকটি থানা এলাকায় তারা সম্প্রতি এই ব্যবসা ফেঁদেছিল।
ধৃতরা পুলিস হেফাজতে থাকার সময় পুলিস তারাপীঠের হোটেল, ধৃতদের বাড়িতে হানা দেয়। সেইসময় পুলিস কোম্পানির ভুয়ো কাগজপত্র সহ কিছু ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করে। কোম্পানির নামে চারটি খালি ফর্ম, তিনটি স্মার্ট মোবাইল, একটি স্মার্ট ট্যাব, রাবার স্ট্যাম্প, তিনটি ভুয়ো আইডেন্টিটি কার্ড, প্রায় ৩০টি ভুয়ো সিমকার্ড, ট্রেনের টিকিট, অসংখ্য এপিক কার্ড, প্যান কার্ড ও আধার কার্ডের জেরক্স কপি ও চারটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি বাজেয়াপ্ত করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ