বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: জায়গা হস্তান্তরের জটিলতার জট ছাড়াতে কেটে গিয়েছে ছ’ বছর। এবার জটিলতা ডিপিআর করা নিয়ে। গত দু’ বছর ধরে ডিপিআর করতে কেউই এগিয়ে আসছে না। ফলে তারাপীঠে সতীর একান্ন পীঠের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ গড়ার প্রকল্প কার্যত বিশ বাঁও জলে।
Advertisement
২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারাপীঠে সতীর ৫১টি পীঠস্থানের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় টিআরডিএ। সেই মতো চিলাব্রিজ সংলগ্ন ৩১ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু জায়গাটি বনদপ্তরের হওয়ায় তারা পরিবর্ত জায়গার পাশাপাশি ২ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা দাবি করে। যা নিয়ে বেশ কয়েকবছর কেটে যায়। ২০২০ সালে বনদপ্তরকে রাজনগরে সমপরিমাণ জায়গা দেওয়া হয়। ২৩ সালের শুরুতে টিআরডিএর পক্ষ থেকে বনদপ্তরকে টাকাও দেওয়া হয়। ওই বছরের এপ্রিল মাসে জায়গাটি টিআরডিএকে হস্তান্তর করে বনদপ্তর। কিন্তু এরপর দ্বারকা নদ দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেলেও প্রকল্প গতি পায়নি। ওই মাসেই টিআরডিএয়ের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক করে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সংবাদ মাধ্যমে জানান, এই প্রকল্পের ডিপিআর করবে টিআরডিএ। হিডকোয় যারা সেভেন ওয়ান্ডার করেছে, তাদের এই কাজ দিলে তাড়াতাড়ি হবে। ওই সংস্থা ৫১টি পীঠ ঘুরে দেখে হুবহু নকশা ও ডিপিআর করবে বলে ঠিক হয়। সে ব্যাপারে রেজোলিউশনও নেওয়া হয়। টিআরডিএ সূত্রে খবর, ওই আর্কিটেক্ট একবার টিআরডিএ অফিসে এলেও পরে আর যোগাযোগ করেননি। তখন থেকে ওই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত জুলাই মাসে এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এসে ক্ষুব্ধ হন জেলাশাসক। তিনি তখন বলেছিলেন, ৫১টি পীঠ ঘুরে দেখতে ৫১ মাস সময় লেগে যাবে। যাঁরা বিভিন্ন জায়গায় এইসব কাজ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিপিআর করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একসঙ্গেই ৫১টি পীঠ করতে হবে তার কোনও মানে নেই। ধাপে ধাপে এই কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু তারপরও কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। এখনও ডিপিআরই তৈরি হয়নি। ফলে এই প্রকল্প আদৌ গড়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ সংশয়ে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, এতদিনে তো ডিপিআর হয়ে যাওয়ার কথা। বিষয়টি দেখছি।
যদিও টিআরডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, বড় প্রজেক্ট এবং ভিন্ন স্বাদের। উল্টোপাল্টা লোক দিয়ে তো ডিপিআর করা যায় না। কিন্তু সেরকম এক্সপার্ট কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। টিআরডিএর সিইও তথা রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে বলেন, কে ডিপিআর করছে তার কোনও তথ্য টিআরডিএর কাছে নেই। কোনও কারণে এই প্রকল্প গতি পাচ্ছে না। এখন আমাদের দিক থেকে সেটা শুরু করতে চাইছি। দেখা যাক।
যদিও টিআরডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, বড় প্রজেক্ট এবং ভিন্ন স্বাদের। উল্টোপাল্টা লোক দিয়ে তো ডিপিআর করা যায় না। কিন্তু সেরকম এক্সপার্ট কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। টিআরডিএর সিইও তথা রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে বলেন, কে ডিপিআর করছে তার কোনও তথ্য টিআরডিএর কাছে নেই। কোনও কারণে এই প্রকল্প গতি পাচ্ছে না। এখন আমাদের দিক থেকে সেটা শুরু করতে চাইছি। দেখা যাক।



