Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠে পঞ্চায়েত সদস্যের মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

তারাপীঠে পঞ্চায়েত সদস্যের মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। সরব হয়েছে তারাপীঠ মন্দির কমিটি। চিকিৎসক হাসন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী সহ পুলিস প্রশাসনের কর্তাদের কাছে ই-মেলে অভিযোগ পাঠিয়েছেন তিনি। তারাময়বাবুই মৃত তৃণমূল সদস্যার স্বামী। যদিও গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই চিকিৎসক। মৃত সদস্যা সুজাতা মুখোপাধ্যায়ের (৪৩) বাড়ি তারাপীঠের পাণ্ডা পাড়ায়। তিনি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত সোমবার সকালে রামপুরহাটে ওই চিকিৎসকের নার্সিংহোমে গর্ভপাত করাতে এসে মৃত্যু হয় ওই পঞ্চায়েত সদস্যার। 
Advertisement
এদিন তারাপীঠ মন্দির কমিটি সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তাঁদের সভাপতির স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ সেবাইত বামাপদ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে জেনেছি ওষুধের মাধ্যমে সেটা ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু চিকিৎসক সেটা না করে অপারেশনের টেবিলে নিয়ে যান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে সভাপতির সংসারটা ভেসে গেল। তাঁর দাবি, এরকম ঘটনা এর আগে অনেকবার ঘটিয়েছেন ওই চিকিৎসক। আমরা এর বিহিত চাইছি। আর এক সেবাইত জয়ন্ত পাণ্ডা বলেন, উনি বিধায়কের তকমা নিয়ে কসাইখানা চালাচ্ছেন। টাকা ছাড়া কিছুই চেনেন না। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। 
মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই সদস্যা হাঁটতে হাঁটতে নার্সিংহোমে ঢুকেছিলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে অপারেশন টেবিলেই তাঁর মৃত্যু হল। তাঁর ভুল চিকিৎসা আড়াল করতে হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন বলছেন। এভাবে অনেকের সংসার নষ্ট করেছেন তিনি। আমরা বিচার চাই। এদিন মন্দিরে পরিবার নিয়ে পুজো দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ গৌতম সান্যাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক বিধান রায় সহ প্রশাসনিক কর্তারা। সেবাইতরা তাঁদের বিষয়টি জানালে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করার জন্য বলেন। মৃতার স্বামী তারাময়বাবু বলেন, গর্ভপাতের জন্য পরামর্শ নিতে স্ত্রীকে নিয়ে গত শনিবার বিধায়ক তথা চিকিৎসকের রামপুরহাটের নার্সিংহোমে যায়। চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায় ছোট্ট অপারেশন করে নেওয়ার জন্য বলেন। আমি বলি ওষুধের মাধ্যমেও তো হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক বলেন, ওষুধে পুরো ক্লিয়ার হয় না। মাস দুয়েক পর সমস্যায় পড়তে হতে পারে। পরিচিত চিকিৎসক হওয়ায় ভরসা করে গত সোমবার সকালে স্ত্রীকে ওই চিকিৎসকের নার্সিংহোমে ভর্তি করি। একটু পরে স্ত্রীর বুকে ব্যথা শুরু হয়। বলা হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইজিসিও করা হয়নি। যার ফলে গর্ভপাতের সময় স্ত্রী মারা যায়। তাঁর দাবি চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। আমি চাই তাঁর নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হোক। চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশনের বাতিলের দাবি জানাই। যদিও চিকিৎসক বলেন, ওই রোগিণীকে যখন নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অপারেশন করার জন্য ওটিতে ঢোকানো হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। মোটামুটি স্টেবল হতেই তাঁকে আইসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরপর তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয়। চতুর্থবার যখন হয়, তখন আর বাঁচানো যায়নি। 
সম্পর্কিত সংবাদ