Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রেনের চেন টেনে নলহাটি-রাজগ্রাম স্টেশনের মাঝে চম্পটের ঘটনা বাড়ছে

ট্রেনের চেন টেনে নলহাটি-রাজগ্রাম স্টেশনের মাঝে চম্পটের ঘটনা বাড়ছে
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কোথাও স্টপেজ নেই, কোথাও স্টেশনই নেই। কিন্তু দিব্যি চেন টেনে দূরপাল্লার ট্রেন থেকে নেমে পড়ছেন যাত্রীরা! ট্রেনে সামান্য অশান্তিতেও চেন টানা হচ্ছে। বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ রুটের নলহাটি থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রাজগ্রাম স্টেশনের মাঝে আকছার এঘটনা ঘটছে। ফলে বিভিন্ন এক্সপ্রেস ট্রেন দেরিতে চলছে। বিষয়টি আরপিএফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাতে নির্জন জায়গায় চেন টেনে ট্রেন দাঁড় করানোয় অন্য যাত্রীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। বেশিরভাগ ট্রেনেরই নলহাটি, চাতরা, মুরারই, বাঁশলৈ, রাজগ্রাম স্টেশনে স্টপেজ নেই। কিন্তু বহু যাত্রী চেন টেনে নিজেদের গ্রামের কাছাকাছি নির্জন জায়গায় ট্রেন দাঁড় করিয়ে চম্পট দিচ্ছে।
Advertisement
আরপিএফের এক কর্তা বলেন, করোনা সঙ্কটে বিভিন্ন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে এঘটনা ঘটছিল। বহু যাত্রী স্টেশনে সোয়াব টেস্ট এড়াতে মাঝপথে বা স্টেশনে ঢোকার আগে চেন টেনে নেমে পালাচ্ছিলেন। সেই দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে। বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে নিত্যদিন এঘটনা ঘটছে।
রবিবার বিকেলে গোড্ডা-শিয়ালদহ ট্রেনে এক নেশাগ্রস্ত যাত্রীর সঙ্গে অপর এক যাত্রীর মারামারি শুরু হয়। নলহাটি পেরোতেই এক যাত্রী চেন টেনে ট্রেন দাঁড় করান। পরে ট্রেন রামপুরহাট জংশনে ঢুকলে আরপিএফ ওই যাত্রীকে জরিমানা করে।
কিছুদিন আগে রাতে বাঁশলৈ সেতুর কাছে ১৫৯০৬ ডিব্রুগড়-কন্যাকুমারী বিবেক এক্সপ্রেস চেন টেনে দাঁড় করানো হয়। আরপিএফের তৎপরতায় মুরারইয়ের বালিয়ারা গ্রামের এক যাত্রী ধরা পড়ে। তার কাছে কোনও বৈধ টিকিটও ছিল না। কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনে চেন টানার ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের কাছে চেন টেনে নেমে যাত্রীরা চম্পট দিচ্ছে।
নলহাটি আরপিএফের ইন্সপেক্টর সকলদেব কুমার বলেন, নলহাটি থেকে রাজগ্রাম স্টেশনের মাঝে এঘটনা ঘটছে। মাঝে কিছুদিন কমে এলেও এখন চেন টানার প্রবণতা বেড়েছে। স্টেশনের কাছাকাছি হলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফাঁকা জায়গার ক্ষেত্রে প্রমাণের অভাবে কাউকে ধরা যায় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
এই প্রবণতায় যাত্রীরাও শঙ্কিত। অনেকেই বলছেন, নির্জন জায়গায় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলে দুষ্কৃতীরা ঢুকে লুটতরাজ চালাতে পারে। যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত। মুরারই রেল প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ জগন্নাথ সেবাদত্ত অবশ্য বলেন, বহুদিন ধরেই নলহাটি থেকে রাজগ্রাম অবধি বিস্তীর্ণ এলাকা অবহেলিত। এসব স্টেশনে বেশিরভাগ এক্সপ্রেসের স্টপেজ নেই। করোনাকালে বন্ধ হওয়া বিভিন্ন লোকাল ট্রেনও নতুন করে চালু হয়নি। এনিয়ে আন্দোলনও হচ্ছে। রেল মানুষের এসব দাবি পূরণ করলে এধরনের প্রবণতা কমে আসবে। নলহাটি নাগরিক মঞ্চের তরফেও একই কথা বলা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ