পাটনা, ১১ ফেব্রুয়ারি: ভারতীয় রেলের চূড়ান্ত অব্যবস্থার দৃশ্য ধরা পড়ল আরও একবার। স্থান বিহারের মধুবনী স্টেশন। ট্রেনে উঠতে না পেরে ভাঙচুর চালাল একদল যাত্রী। গতকাল, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মধুবনী স্টেশনে। পূর্ণকুম্ভে যাওয়ার জন্য গতকাল, স্বতন্ত্রতা সেনানি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ধরার জন্য ওই স্টেশনে ভিড় জমান প্রচুর যাত্রী। যদিও ওই ট্রেনটির ভিতরে আগে থেকেই যাত্রী ভর্তি ছিল। ট্রেনটির ভিতরে এতজন যাত্রী ছিলেন যে প্রত্যেকটি বগির দরজাই খোলা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিল। উল্টোদিকে মধুবনী স্টেশনে কাতারে কাতারে যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন ওই ট্রেনটিতেই উঠবেন বলে। কিন্তু উঠতে না পেরে বেজায় চটে যান যাত্রীরা। ট্রেনে ভাঙচুর চালাতে শুরু করেন তারা। একটি ভাইরাল ভিডিওতে (যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) দেখা গিয়েছে, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুব্ধ যাত্রীরা পাথর ছুড়ছেন স্বতন্ত্রতা সেনানি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসকে লক্ষ্য করে। সেই পাথরের আঘাতে ভেঙে যায় ট্রেনটির একাধিক এসি কামরার জানলার কাঁচ। আবার আর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রী ওই ট্রেনের একটি এসি কামরার জানলার কাঁচ পুরো ভেঙে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনটির ভিতরে থাকা যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রবল আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন ট্রেনের ভিতরে থাকা মহিলা যাত্রীরাও। এরপর মধুবনীতে দীর্ঘক্ষণ ট্রেনটিতে তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রায় একঘণ্টা ওই স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি! তারপর কোনও মেরামতি ছাড়াই ট্রেনটি রওনা দেয় নয়াদিল্লির উদ্দেশে। যখন এই তাণ্ডব চালাচ্ছেন মধুবনী স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তখন কোনও রেল পুলিসের দেখা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন ওই ট্রেনের ভিতরে থাকা যাত্রীরা। মূলত মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে পূর্ণকুম্ভে পুণ্যস্নান করতে যাওয়ার জন্যই এই ভিড়। বিহারের জয়নগর থেকে ছাড়ে স্বতন্ত্রতা সেনানি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। যেটি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ হয়ে যায় নয়াদিল্লিতে। প্রশ্ন উঠছে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা কী সকলেই ওই ট্রেনটির বৈধ যাত্রী ছিলেন?



