Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যমজ তিন ভাই পেল মাধ্যমিকে স্টার মার্কস

যমজ তিন ভাই পেল মাধ্যমিকে স্টার মার্কস
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: তিন যমজ ভাইয়ের পছন্দ ভিন্ন। কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ হতে চায় ইঞ্জিনিয়ার। আরেক ভাইয়ের সাফ উত্তর, সে হতে চায় ব্যাঙ্কের অফিসার। ক্রিকেট টিমেও তাঁদের পছন্দ ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে তিন জনেরই লক্ষ্য স্থির। সেই মন্ত্রেই তিন যমজ ভাই মাধ্যমিকে পেল সাফল্য। এতে খুশি মেদিনীপুর সদর ব্লকের খয়েরুল্লা এলাকার বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, তিন ভাই সম্রাট, সৈকত ও সাগ্নিক দাশগুপ্ত মাধ্যমিকে স্টার মার্কস পেয়েছে। সম্রাটের প্রাপ্ত নম্বর ৬২৭, সৈকতের প্রাপ্ত নম্বর ৫৮৫ ও সাগ্নিক ৫৯৭ নম্বর পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তিন ভাই লাজুক স্বভাবের। তারা দিনরাত পড়াশোনা করে। একইসঙ্গে তারা নিয়মিত মাঠে ক্রিকেট খেলতেও যায়। কঠোর পরিশ্রম করায় মাধ্যমিকে ফলাফল ভালো হয়েছে। 

Advertisement

২০০৮ সাল নাগাদ খয়রুল্লা এলাকার বাসিন্দা মনিকা দাশগুপ্ত একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দেন। তাঁর স্বামী প্রবীর দাশগুপ্ত অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী। তিন ভাই ছোট থেকেই মেধাবী। স্কুলে বরাবর ভালোই রেজাল্ট করেছে।তারা খয়েরুল্লা চক নেতাজি বিদ্যামন্দিরের ছাত্র। তাদের বলেন, তিনজনেরই পছন্দ আলাদা। স্বাভাবিকভাবেই টিভির রিমোট কার দখলে থাকবে অথবা কোন টিম জিতবে, কোন প্লেয়ার ভালো খেলবে, এনিয়ে নিজেদের মধ্যে খুনসুটি লেগেই থাকে। কিন্তু পড়াশোনার প্রশ্নে তাদের মিল রয়েছে। একজনের সমস্যা হলে অপরজন সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে। তাদের বাবা প্রবীর দাশগুপ্ত বলেন, সায়েন্স বিষয়ে তিনজনের পড়াশোনার খরচ চালানো খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে যদি কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে খুবই উপকার হবে। বড় ভাই সম্রাট জানায়, আইপিএলে মুম্বইয়ের দলের খেলা ভালো লাগে। খেলা দেখি নিয়মিত। তবে পড়াশোনা করতে বেশি ভালো লাগে। আগামী দিনে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বসতে চাই।অপরদিকে, মেজ ভাই সৈকত জানায়, আইপিএলে চেন্নাই দলকে ভালো লাগে। ধোনি দারুণ খেলোয়াড়। 
আগামী দিনে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। আরেকটু ভালো রেজাল্ট হলে ভালো লাগত।ছোট ভাই সাগ্নিক জানায়, আইপিএলে পছন্দের টিম হায়দরাবাদ। আমি মেডিক্যালের পরীক্ষায় বসতে চাই। আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শুনেছি, একজন পড়া বুঝতে না পারলে অপরজন সহযোগিতা করে। তিনজনের মুখের মিল একদমই নেই। কিন্তু একসাথে পড়াশোনা করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। তিনজনের খুব বেশি টিউশনিও ছিল না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ