Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের টাউন সভাপতি পদ ‘বিক্রি’ ৩ লক্ষে! ভাইরাল অডিও ঘিরে সরগরম রানাঘাট

লক্ষ লক্ষ টাকায় নাকি বিক্রি হচ্ছে তৃণমূলের টাউন সভাপতির পদ! সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপ (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)কে হাতিয়ার করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে রানাঘাটের রাজনীতিতে।

তৃণমূলের টাউন সভাপতি পদ ‘বিক্রি’ ৩ লক্ষে! ভাইরাল অডিও ঘিরে সরগরম রানাঘাট
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: লক্ষ লক্ষ টাকায় নাকি বিক্রি হচ্ছে তৃণমূলের টাউন সভাপতির পদ! সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপ (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)কে হাতিয়ার করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে রানাঘাটের রাজনীতিতে। শাসকদলকে আক্রমণ করে রাজনীতির জলঘোলা করতে শুরু করেছে বিজেপি। ভাইরাল অডিওর পিছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। 

Advertisement

বুধবার থেকে ওই অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ার ঘুরতে থাকে। তাতে দুই ব্যক্তির কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে, রানাঘাটে টাউন সভাপতি হতে গেলে দিতে হবে ৩ লক্ষ টাকা। আর সেই টাকা নাকি চেয়েছেন খোদ রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি মুকুটমণি অধিকারীর ব্যক্তিগত আপ্তসহায়ক। তাঁর নাম প্রিন্স অধিকারী। ভাইরাল সেই কথোপকথনের একটি জায়গায় প্রথম ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘মুকুটদার সঙ্গে এমনি কথা হল। পরে উনি বললেন প্রিন্সের সঙ্গে কথা বলে নিও। পরে প্রিন্স আমাকে টাউন সভাপতির প্রসঙ্গ উঠতেই বলল ৩ লক্ষ টাকা লাগবে। টাউন সভাপতি হয়ে আমি কি তিন লক্ষ টাকা তুলতে পারব?’ দ্বিতীয় ব্যক্তি বিস্ময়ের সুরে বলেন, ‘তিন লক্ষ! সবার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা করে খেলে এত টাকা রাখবে কোথায়?’ তবে শুধু এই কথোপকথন নয়, তাতে এক ব্যক্তি রীতিমতো আশাহত হয়ে বলেন, ‘১৫ বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে দল করছি। পকেটের পয়সা খরচ করে লোকজনকে খাওয়াই। পার্টির টাকা নিই না। টাকা দিয়ে যদি দলের পদ নিতে হয়, তাহলে পারবো না।’ 
এদিকে, এই অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পরেই রাজনীতির ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূলে পদ বিক্রির ব্যবসা চলছে। যে খরচ করে সেটা কিনছে, সে পরে তোলাবাজি করে সেটা উসুল করবে। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, ‘তৃণমূল আর বেআইনি টাকা সমার্থক। এটাই ওদের সংস্কৃতি। দলের পদ পেতে গেলে নাকি তিন লক্ষ টাকা দিয়ে পেতে হয়। তারপর তোলাবাজি কাটমানির মাধ্যমে সেই পদাধিকারী পকেটভর্তি করবেন। আমরা অডিওতে শুনতে পেয়েছি, এক ব্যক্তি আশঙ্কার সুরে বলছেন যে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে দলের পদ নেওয়ার পর তিনি মার্কেট থেকে সেই টাকা তুলতে পারবেন কিনা। মুকুটমণি অধিকারী যখন তৃণমূলের যোগ দিয়েছেন তখন থেকেই তিনি তৃণমূলের এই বেচাকেনার সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে গিয়েছেন।’ ভাইরাল অডিও সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি তৃণমূলের। উল্টে এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি মুকুটমণির। তিনি বলেন, ‘আমি দলের যুব সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকেই কিছু গোষ্ঠী এবং বিরোধী শক্তি ছাব্বিশে নিজেদের হারের আশঙ্কায় অপপ্রচারে উদ্যত হয়েছে। বিজেপির থেকে এই জন্যই মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে। দু’জনকে দিয়ে এই ভুয়ো অডিও ক্লিপিং বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে সম্মানহানির চেষ্টা চলছে আমার এবং আমার আপ্তসহায়কের। এই নিম্ন রুচির রাজনীতিকে ধিক্কার জানাই। যারা এই ষড়যন্ত্রের পিছনে রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আদালতের কাঠগড়ায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ