নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাব এবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে! এটাই এখন তৃণমূলের রণকৌশল। বাংলা ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি একতরফা অভিযোগের আঙুল তুলে যাবে, এটা এখন আর হবে না। বিজেপি যে অভিযোগ তুলবে, যুক্তিসহ তার জবাব দিতে পথে নেমেছে জোড়াফুল ব্রিগেড।
‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’য় নাম নথিভুক্ত করেছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে লাগাতার আওয়াজ তুলছেন তাঁরা। ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর প্রথম ১০ দিনে যত সংখ্যক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, তাতে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, রাজ্যের মানুষের কাছে বাংলার সম্মান, মর্যাদা, আবেগ বেশি মাত্রায় ধরা পড়ছে। তাই যে রাজনৈতিক দল বা নেতারা বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও অপমানের চেষ্টা করছেন, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনা তাঁদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদশে, দিল্লি, ত্রিপুরায়সহ ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে গত কয়েকদিনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেটাই আরও বেশি মাত্রায় সামনে আনছেন তৃণমূলের ডিজিটাল যোদ্ধারা।
বস্তুত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, তত দেখা হচ্ছে দিল্লি বিজেপির তাবড় নেতা থেকে এরাজ্যের কোনও গ্রামের বিজেপি নেতাদের এখন একটাই নজর—টাগের্ট বাংলা। তৃণমূল এর আগে একাধিকবার বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের আসনে থেকেও গঠনমূলক কোনও কাজ নেই বিজেপির। শুধুই নেতিবাচক আচরণ। তৃণমূলের অভিযোগ, কুৎসা, অপপ্রচার আর বাংলাকে অসম্মান করাই বিজেপি নেতাদের মতলব। ওরা আসলেই বাংলা বিরোধী।
এই অবস্থায় মাঠে-ময়দানে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিলের মাধ্যমে বিজেপিকে জবাব দেওয়ার কর্মসূচি যেমন চলছে তৃণমূলের, তেমনই বেশি মাত্রায় জোর দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর। অর্থাৎ ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব-সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকেই পুরো মাত্রায় ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। গত ১৬ অক্টোবর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করেছেন ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি। তাতে দেখা গিয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। আবার ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা ডিজিটাল মাধ্যমে বিজেপির বিরেুদ্ধে ঝড় তুলেছেন। সেখানে তৃণমূল নেতারা সরব হয়েছেন—মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে মহিলা ক্রিকেটারের উপর নির্যাতন, মহারাষ্ট্রে মহিলা চিকিৎসকের আত্মঘাতী হওয়া এবং পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিক খুন, ত্রিপুরায় পুলিশ অফিসারকে বেধড়ক মারধরের ঘটনা নিয়ে।
এই ছবিও ধরা পড়েছে যে তৃণমূলের অনেক নেতা সামাজিক মাধ্যমে সড়োগড়ো ছিলেন না। কিন্তু ভোটের আগে সেই নেতারাও ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ হয়ে উঠে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনই আওয়াজ তুলছেন। তাঁদের সকলের একটাই বক্তব্য, বিজেপি তাদের আইটি সেলকে কাজে লাগিয়ে একতরফা অভিযোগ তুলে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার বিজেপিকে ডিজিটাল মাধ্যমেই জবাব হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে।