


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগেই ই এম বাইপাস সংলগ্ন দলের ‘আদি’ ভবন থেকে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল। সেই মতো আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
ই এম বাইপাসের ধারে উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় ছিল। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন, ওই তৃণমূল ভবনটি আকার ও জায়গার পরিসরে ছোটো। তাই সেটিকে ভেঙে বড়ো আকারে দলের রাজ্য সদর তৈরি করা হবে। সেইমতো ওই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর পাঁচতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। সেই কাজও চলছে বছর চারেক ধরে। এমতাবস্থায় দলের কাজ পরিচালনা হচ্ছে মেট্রোপলিটনের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে। সেটি এখন অস্থায়ী তৃণমূল ভবন। গোটা ঘটনা অন্য মোড় নিয়েছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর। অস্থায়ী তৃণমূল কার্যালয়ের ভবনটির মালিক একটি বেসরকারি ডেকরেটিং সংস্থা। ওই সংস্থার কর্ণধার তৃণমূলকে অনুরোধ করেছেন, বাড়িটি খালি করে দিতে। এমনকি সূত্রের খবর, ওই ডেকরেটিং সংস্থার কর্ণধার মন্টু সাহার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের বেশ খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মন্টু সাহা চাইছেন, বাড়িটি দ্রুত তাঁর হাতে আসুক। এই অবস্থায় দলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘আদি’ ভবনের কাজ মাস দুই-তিনের মধ্যে শেষ করে ফেলতে। স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর। চেষ্টা চলছে ‘আদি’ ভবনের দুটি ফ্লোর
দ্রুততার সঙ্গে তৈরি করে সেখানে দলের কার্যক্রম শুরু করে দেওয়ার। বিল্ডিংয়ের বাকি অংশ পর্যায়ক্রমে তৈরি হবে।
তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, অস্থায়ী তৃণমূল ভবনটি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। দলের তরফে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দলীয় কার্যক্রম পুরানো ভবন থেকে শুরু করা হবে। সেইমতো ভবনটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে।
‘আদি’ ভবন তৃণমূলের উত্থানের সাক্ষী। ফলে অনেক নেতাই মনে করছেন, ওই বিল্ডিংয়ে দলের কাজ শুরু হলে তৃণমূল আবার ঘুরে দাড়াবে এবং শক্তিশালী হবে। তবে ‘আদি’ ভবনে থাকা
একটি পেঁচা নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। সেটি এখন বনদপ্তরের কাছে আছে। ওই ভবন তৈরি হয়ে গেলে পেঁচাটি কি ফেরত আনা যাবে? ওই পেঁচার সঙ্গে তৃণমূলের উত্থান নাকি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত! জোরকদমে চলছে ভবন তৈরির কাজ। নিজস্ব চিত্র