Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে গুড়-বাতাসা সহযোগে তৃণমূলের ‘সৌজন্য রাজনীতি’

দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের চত্বর যেন এদিন এক অদ্ভুত দ্বৈত আবহের সাক্ষী। একদিকে ইভিএমে বন্দি মানুষের রায়, অন্যদিকে মুখে উদ্বেগের ছাপ নিয়ে অপেক্ষমান দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

দুর্গাপুরে গুড়-বাতাসা সহযোগে তৃণমূলের ‘সৌজন্য রাজনীতি’
  • ১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা দুর্গাপুর : দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের চত্বর যেন এদিন এক অদ্ভুত দ্বৈত আবহের সাক্ষী। একদিকে ইভিএমে বন্দি মানুষের রায়, অন্যদিকে মুখে উদ্বেগের ছাপ নিয়ে অপেক্ষমান দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, সেই উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার মাঝেই ধরা পড়ল এক ভিন্ন ছবি। তৃণমূল শিবিরে গুড়-বাতাসা ও ঠান্ডা জল বিলির ব্যস্ততা।

Advertisement

প্রখর রোদে ক্লান্ত পথচারী হোক কিংবা দলীয় কর্মী, যিনিই সামনে আসছেন, তাঁকেই এগিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, ‘একটু জল খান, বাতাসা নিন।’ রাজনীতির উত্তাপে যখন পরিবেশ ভারী, তখন এই ছোট্ট প্রয়াস যেন সাময়িক স্বস্তির পরশ হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই দৃশ্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনছে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি, যখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল রাজনীতির সহজ ভাষা।
তৃণমূল কর্মীদের কথায়, এই উদ্যোগ নতুন কিছু নয়, বরং দলের সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। কেউ কেউ দলের বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, উনি শিখিয়েছেন, গরমে মানুষকে জল খাওয়াতে হয়। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। এটা আমাদের সৌজন্য।
নির্বাচনি ফল নিয়ে আশাবাদী সুর শোনা যাচ্ছে জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের কথায়। উত্তমবাবু বলেন, ৪ মে-র ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা সইছে না। মানুষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, এসআইআর ও কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আমরা নিশ্চিত, এবার মানুষই জবাব দেবে বিজেপিকে।
একই সুরে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় জানান, এই গরমে জল আর একটু বাতাসা দেওয়া কোনও রাজনীতি নয়, এটা দায়িত্ব। পথচলতি মানুষ আসছেন, আমাদের কর্মীরাও আছেন, সবাই যাতে স্বস্তি পায়, সেই চেষ্টা করছি। তবে এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চার তারিখ পর্যন্ত গুড়-বাতাসা বিলি করে নিক, চার তারিখের পর গুরু বাতাসা পিঁপড়েয় খেয়ে নেবে। মানুষ এবার নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলও ব্যঙ্গের সূরে বলেন, তৃণমূলের একজন প্রায়ই গুড় বাতাসা আর পাচনের গপ্পো শোনাতেন। তিনি অসুস্থ ছিলেন তাই ইডি আর সিবিআই তাঁর চিকিৎসার পর থেকে তিনি আর এসব গল্প শোনান না। কিন্তু তাঁর কিছু শাগরেদ সেই গল্পটা ভুলতে পারেননি।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী সভাপতি বিট্টু সান্যাল বলেন, আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। ৪ মে বিকেলের পরই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখনই সব অপেক্ষা, কটাক্ষের অবসান হয়ে যাবে। তখন শুধু ডিজে বাজবে না, রবীন্দ্রসঙ্গীতও বাজবে।
 গরমে দুর্গাপুরে ডিসিআরসি কেন্দ্রের বাইরে  তৃণমূল শিবিরে গুড় বাতাসা বিতরণ।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ