নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধান। পুরসভা ভোটে গতবার যাঁর হাতে ছিল জোড়াফুল, এবার তাঁর হাতেই উঠবে পদ্মফুল! তৃণমূলের এক ঝাঁক প্রাক্তন কাউন্সিলরের এবার বিজেপির প্রার্থী? শুরু হয়েছে তুমুল গুঞ্জন। তাঁরা এবার বিজেপির প্রতীকে কলকাতা পুরসভার ভোটে প্রার্থী হতে পারেন বলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমনকি একটি সূত্র জানাচ্ছে, কয়েকজনের নাম পাকাপাকি হয়েও গিয়েছে। বাকিদের মধ্যে কার কপালে প্রার্থী হওয়ার শিঁকে ছিড়বে, তা কয়েকদিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এনসিপিআই দল এনডিএ’র শরিক। তারা প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও যোগ দেয়। কিন্তু তারা পুরসভা ভোটে অংশ নেবে কি না, তা মুখ্যমন্ত্রীর দেখার বিষয় নয়।
পুরসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হলে জয় পেতে সুবিধা হবে বলে মনে করছেন এক ঝাঁক তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর। ইতিমধ্যেই তাঁরা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও করে ফেলেছেন। আবার প্রাক্তন ওই কাউন্সিলরদের মাথার উপরে যে ‘দাদা’ বা ‘দিদি’ রয়েছেন, তিনিও দরবার শুরু করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এনসিপিআই দলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়দের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের একপ্রস্থ কথা হয়েছে বলে খবর। দু’একদিনের মধ্যেই ফের এক দফায় কথা হতে পারে। আবার দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা এক মহিলা সাংসদ তাঁর সংসদীয় এলাকার মধ্যে থাকা কয়েকটি ওয়ার্ডের জন্য ‘পছন্দের প্রার্থী’ হিসেবে রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কাছে দরবার করেছেন। আবার বেহালার তৃণমূলের এক প্রাক্তন কাউন্সিলর ‘হাত’ ধরেছেন রাজ্যের এক দাপুটে মন্ত্রীর, ভোট বৈতরণী পার করে দেওয়ার জন্য।
সবমিলিয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের মধ্যে যে সমস্ত নাম রাজনীতির কারবারিদের কাছে ঘোরাফেরা করছে, তাতে সামনে এসেছে জুঁই মজুমদার (বিশ্বাস), অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা বিশ্বাস, অনিন্দ্য কিশোর রাউথ, তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ পোল্লে, জীবন সাহা, ইলোরা সাহা, ক্রিস্টিনা বিশ্বাস, মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনন্দা সরকার, ঘনশ্রী বাগ। শান্তি কুন্ডু, পূজা পাঁজার নাম নিয়েও চর্চা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তারক সিংয়ের পরিবারের একজন প্রার্থী হতে পারেন। সাংসদ মালা রায়ের পুত্র নির্বাণ প্রার্থী হতে পারেন পুরভোটে। আবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসুও প্রার্থী হতে পারেন। সৌরভের মতো ‘খাম’ চিহ্নের প্রতীকে কয়েকজন প্রার্থী হলে, তাঁদের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ একাধিক নেতা দলের অবস্থান স্পষ্ট করে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, পুরসভা ভোটেবিজেপির পদ্মফুল চিহ্নেই সব ওয়ার্ডে প্রার্থী থাকবে। অন্য কোনো প্রতীকে প্রার্থী হবে না। এদিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুরে ১০টির মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপি জিতবে। একটি ওয়ার্ড সংখ্যালঘু প্রভাবিত। তবে রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলের পর ওই একটি ওয়ার্ডে কী হবে, তা বলা যায় না।



