নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সোমবার রাতে এক তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি বসিরহাট থানার গোটরা পঞ্চায়েতের ঘোনা গ্রামের। পুলিস জানিয়েছে, মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম আনার হোসেন গাজি (২৫)। ঘটনার পরে এলাকার সিসি ক্যমেরার ফুটেজ দেখে চারজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তবে মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে বসিরহাট থানায়। ধৃতরা হল বাকিবুল বৈদ্য, রবিউল সর্দার, সাবির আলি গাজি ও ফিরোজ গাজি। মঙ্গলবার তাঁদের বসিরহাট আদালতে তোলা হলে পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আনার হোসেনের বাড়ি বসিরহাটের গোটরা পঞ্চায়েতের ঘোনা গ্রামে। সোমবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোটরবাইকে বসে চা খাচ্ছিলেন। আচমকা সেখানে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়। আনারকে লক্ষ্য করে তারা পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির সেই শব্দে চায়ের দোকান থেকে যে যাঁর মতো দৌড়ে পালিয়ে যান। গুলি করার পর আনারের মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্রের কোপও দেওয়া হয়। এরপর দুষ্কৃতীরা হেঁটে সেখান থেকে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আনার হোসেন আগে তৃণমূলের এক বিধায়কের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। পরে অবশ্য সে কাজ ছেড়ে মাঠে চাষাবাদ করতেন। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সাদ্দাম হোসেন গাজি বলেন, আমরা রাতে চায়ের দোকানে বসে গল্প করছিলাম। আনার হোসেন একটি মোটরবাইকের উপর বসেছিলেন। আচমকা একদল দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর দুষ্কৃতীরা চলে যেতে দেখা যায়, আনার মোটরবাইকের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।এনিয়ে মৃতের কাকা ফজের আলি গাজি বলেন, পুলিস ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, এটাই চাই। আর বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ঘটনায় মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বসিরহাট থানায়। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মঙ্গলবার ভোরে। বাকিদেরও শীঘ্রই ধরা হবে। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এই ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



