Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বচসা থামাতে গিয়ে খুন তৃণমূল কর্মী, গ্রেপ্তার ২

দুই মদ্যপের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে খুন হলেন এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী।

বচসা থামাতে গিয়ে খুন তৃণমূল কর্মী, গ্রেপ্তার ২
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: দুই মদ্যপের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে খুন হলেন এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। মৃতের নাম সঞ্জয় বর্মন (৩৭)। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাথাভাঙা থানার পুলিস। বৃহস্পতিবার রাতে খুনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে এসে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, দলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, এনবিএসটিসি’র চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়। এদিন মাথাভাঙা মর্গে ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে মাথাভাঙা থানায়। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে খারিজা কাউয়ারডারার বাসিন্দা অজয় বর্মন ও মন্টু বর্মন বচসায় জড়ান। অভিযোগ দু’জনই অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় ছিলেন। এক বাড়িতে মনসাপুজোর প্রসাদ খেয়ে সেখান থেকে ফিরছিলেন সঞ্জয়। অজয় ও মন্টুর বচসা থামাতে যান তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ে অজয় একটি লোহার রড দিয়ে সঞ্জয়ের মাথায় মারেন। সঞ্জয় লুটিয়ে পড়লেও বারবার তাঁর মুখ ও মাথায় আঘাত করতে থাকেন। রক্তাক্ত সঞ্জয়কে দেখার পর স্থানীয়রা পুলিসকে খবর দেন। পুলিস এসে সঞ্জয়কে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানিয়ে দেন। 
মৃত সঞ্জয় বর্মনের ভাই মিঠুন বলেন,দাদা প্রতিদিনই অনেক রাতে বাড়ি ফিরত। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা খবর পাই দাদা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে। গিয়ে দেখি মারা গিয়েছে। কী করে হল বুঝতে পারছি না। শুনেছি, ওখানে দু’জন ব্যক্তির বচসা থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল। 
জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পরেশচন্দ্র বর্মন বলেন, সঞ্জয় আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী। পুজোর প্রসাদ খেয়ে ছেলেটি বাড়ি ফিরছিল। সেই সময়ে অজয় ও মন্টুকে বচসায় জড়াতে দেখে বাধা দিতে যায়। অজয় কাঠমিস্ত্রির কাজ করে। ও নিজের ব্যাগ থেকে লোহার রড বের করে সঞ্জয়ের মাথায় মারে। এর পর মাথা ও মুখে একাধিকবার আঘাত করে। আমরা জানার পর ছুটে আসি। বচসা থামাতে গিয়ে এভাবে একজন সক্রিয় কর্মীর মৃত্যু হবে, ভাবতেই পারছি না। অজয় এবং মন্টু দু’জনই সেসময় অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় ছিল বলে প্রধানের দাবি।
এদিন মাথাভাঙা থানায় আসেন কোচবিহারের পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জোরপাটকিতে একটি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে এমন খবর আমাদের জানানো হয়েছিল। সেখানে পুলিস কর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে এটা একটি খুন। ইতিমধ্যেই খুনের ঘটনায় জড়িত অজয় বর্মন ও মন্টু বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অজয় ও মন্টু দু’জনে বচসায় জড়িয়েছিল। সঞ্জয় সেই বচসা থামাতে যান। সঞ্জয়ের উপর অজয় চড়াও হয় ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না সেটাও দেখা হচ্ছে। মাথাভাঙার অতিরিক্তি পুলিস সুপার সন্দীপ গড়াই জানিয়েছেন, এদিন দু’জনকে আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের রিমান্ডে পেয়েছি আমরা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ