Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিশেষ কোনো জনগোষ্ঠী নয়, সর্বস্তরের সমর্থন চায় তৃণমূল, উত্তর হাওড়ায় হিন্দিভাষী ভোটব্যাংকই টার্গেট পদ্মপার্টির

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। আসনটি দখল করতে মরিয়া বিজেপি শিবির।

বিশেষ কোনো জনগোষ্ঠী নয়, সর্বস্তরের সমর্থন চায় তৃণমূল, উত্তর হাওড়ায় হিন্দিভাষী ভোটব্যাংকই টার্গেট পদ্মপার্টির
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। আসনটি দখল করতে মরিয়া বিজেপি শিবির। তবে সামগ্রিক প্রচারে প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় ইভিএমে জনসমর্থন টানতে হিন্দিভাষী ভোটব্যাংককে টার্গেট করেছে বিজেপি। বিশেষত উত্তর হাওড়ার নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে বেছে বেছে জোরদার প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে পদ্মপার্টির প্রার্থী উমেশ রাইকে। প্রচারে গিয়ে নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বমানের হাওড়া বাস টার্মিনাল গড়ারও আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। আবাসন থেকে মহল্লা— দরজায় দরজায় গিয়ে জনসংযোগ সারছেন উমেশ। তবে বিজেপির এই ভোট মেরুকরণকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের দাবি, হিন্দি বা বাংলাভাষী বলে আলাদা কিছু হয় না, সর্বস্তরের ভোটারদের সমর্থনই গণতন্ত্রের মূল কথা।

Advertisement

উত্তর হাওড়া সদরের একমাত্র বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে জনবিন্যাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। হিন্দিভাষী ও সংখ্যালঘু ভোটারের পাশাপাশি বনেদি বাঙালি পরিবারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মাত্র ৫ হাজার ৫২২ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের গৌতম চৌধুরী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে প্রায় ১০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ঘাসফুল শিবির উত্তর হাওড়ার দীর্ঘদিনের জলসংকট মেটাতে ‘সত্যবালা জল প্রকল্প’র সাফল্যকে বড়ো হাতিয়ার হিসাবে তুলে ধরছে এবং সেই প্রকল্পের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করছে। প্রার্থী গৌতম চৌধুরীকে এই বিধানসভার ১৪টি ওয়ার্ডেই লাগাতার প্রচারে দেখা যাচ্ছে। ফলে তৃণমূলের প্রচারে একটি সমন্বিত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
অন্যদিকে, বিজেপি শিবির রীতিমতো ব্যস্ত হিন্দিভাষী অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে। রীতিমতো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেই প্রচারের ময়দানে নেমেছেন প্রার্থী উমেশ রাই। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১, ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পুরোটাই হিন্দিভাষী ভোটার। ২ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেও তাঁদের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। এই এলাকাগুলিতে প্রচারে বেশি সময় দিচ্ছেন উমেশ। বিজেপি প্রার্থীর কথায়, ‘যেখানে সমর্থন বেশি, সেখানে প্রচারের তেজ বাড়ানোই স্বাভাবিক। তবে বাঙালি ভোটাররাও এখন তৃণমূলের উন্নয়নের বেহাল চিত্র বুঝতে পারছেন।’ 
তাঁর দাবি, পরিবর্তনের পক্ষে একটি নীরব জনমত তৈরি হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের  বড়ো অংশের মতে, মাত্র কয়েকটি ওয়ার্ডের উপর নির্ভর করে উত্তর হাওড়ার মতো বৈচিত্র্যময় কেন্দ্রে জয় পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে হিন্দিভাষী এলাকাগুলিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৃণমূল যে প্রভাব ও আস্থা অর্জন করেছে, আসন্ন নির্বাচনে তার সুবিধা পেতে পারে শাসকদল। বিজেপির এহেন ভোট ভাগাভাগির রাজনীতিকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, এভাবে ভাগাভাগি করে বিজেপি মেরুকরণ করতে চাইছে। এটাই ওদের রাজনীতি। কিন্তু তৃণমূলের কাছে উন্নয়ন প্রত্যেকের জন্য। প্রত্যেকের সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ