রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: উদ্বাস্তু ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একসময়ের বামেদের আঁতুড়ঘর টালিগঞ্জ সোমবার ভিন্ন ভোটের সাক্ষী থাকল। উৎসবের মেজাজে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন ভোটাররা। আড়ালে থেকে সফলভাবে ভোট করালেন এলাকার চারবারের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। কার্যত বিরোধীহীন খণ্ডচিত্র উঠে এল টলিউড ও সংলগ্ন এলাকায়। এদিন সকাল থেকে সূর্যের প্রখর তেজ ছিল উধাও। আরামদায়ক আবহাওয়ায় ভোটারদের ঢল নামতে দেখা গিয়েছে বুথে বুথে। বেলা বাড়তেই খানিক বৃষ্টি বাড়তি স্বস্তি এনেছে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন পর্বে।
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে নিরুপদ্রব ভোট হল। সকালের দিকে কয়েকটি বুথে ইভিএম যন্ত্রের সৌজন্যে যন্ত্রণার শিকার হন ভোটাররা। বয়স্ক ও শারীরিক অসুস্থ ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। নাকতলার আনন্দ আশ্রম বালিকা বিদ্যাপীঠ ২৬৫ নম্বর বুথে একঘণ্টা পরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটকর্মীদের একাংশ সংশ্লিষ্ট বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অভব্য আচরণে অভিযোগে সরব হন। ভোটদানে বিলম্ব হওয়ার ফলে ভোটারদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন প্রিসাইডিং অফিসার। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গোটা এলাকা চষে সিপিএমের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। একদা এই এলাকা থেকেই গুচ্ছ মাতব্বর বাম নেতার উত্থান হয়েছিল।
সিপিএমের একাধিক সহযোগী সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছিল এই এলাকায়। ৩৪ বছরের বামশাসনের অবসানের পর, ২০২১ সালে লালপার্টি শূন্যে নেমে গিয়েছিল। একসময়ের হার্মাদের আস্তানার এই হাল রাজ্যের সার্বিক বর্তমান চিত্র তুলে ধরছে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অন্যদিকে, ইতিউতি গেরুয়া পতাকা তেমন ফ্যাক্টর হবে না, মত সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন অরূপ বিশ্বাস। নিজস্ব চিত্র