


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, কান্দি: ইভিএমে জোড়াফুল প্রতীকে বোতাম টিপলে পদ্ম প্রতীকে আলো জ্বলছে। অর্থাৎ, তৃণমূলকে ভোট দিলে ভোট পড়ছে বিজেপিতে। বৃহস্পতিবার বড়ঞা বিধানসভার ১৮৬ নম্বর গোদাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে এভাবেই ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে। একই অভিযোগ ওঠে হরিহরপাড়ার একটি বুথেও। পরে ইভিএম বদল করে ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে দুপুরের দিকে বড়ঞায় ফের বুথের ওয়েবক্যাম খারাপ হয়ে পড়ায় কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন ইভিএম নিয়ে। নির্বাচনের দিন দফায় দফায় ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়া এবং জোড়া ফুলের ভোট পদ্মফুলে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছ ভোট গ্রহণপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিন বড়ঞার পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের ১৮৫ ও ১৮৬ নম্বর বুথে ভোট গ্রহণ চলছিল ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সাত সকালেই ভোট দেওয়ার লম্বা লাইন পড়ে। ১৮৬ নম্বর বুথে ২৮জন ভোট দিয়ে ফেলেছিলেন। ঠিক তখনই ইভিএম নিয়ে মারাত্বক অভিযোগ উঠে। তৃণমূলের সমর্থক কয়েকজন ভোটার বাইরে বেরিয়ে এসে দলীয় নেতৃত্বকে জানান, জোড়া ফুলে ভোট দিলেও ভিভিপ্যাটে পদ্মর স্লিপ পড়ছে। শাসকদলের এজেন্ট মারফত সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজকও। তিনি নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। প্রতিমাদেবী বলেন, বিজেপির কারচুপি একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে গিয়েছে। শুধু তৃণমূলের বলে নয়, ভোট যাতেই দেওয়া হচ্ছে সেটা বিজেপির খাতায় জমা হচ্ছে। ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকার পর সেখানে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুরের দিকে ফের ওই বুথের ওয়েবক্যাম খারাপ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। তার জেরেও প্রায় আধঘণ্টা ভোট বন্ধ রাখা হয়। বিজেপি প্রার্থী সুখেনকুমার বাগদি বলেন, ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে সেটা কিছুক্ষণের মধ্যে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এর পিছনে আমরা কোনোভাবে দায়ী হতে পারি না।
এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় ইভিএম খারাপের খবর আসে, মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভার প্রায় ১০০টি বুথে বারবার ইভিএম খারাপ হতে থাকে। বহরমপুরে গোরাবাজার অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪১ নম্বর বুথে পরপর চারবার ইভিএম খারাপ হয়। আড়াই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানোর পর ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন। কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন ভোটাররা। চরম অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ ভোটাররা ভোটকর্মী এবং বুথের প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে সেখানে আসেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। সেখান থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিককে ফোন করে তিনি অভিযোগ জানান। কংগ্রেস প্রার্থী এলাকায় ছাড়ার পরই সেখানে আসেন তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি ভোটকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মানুষজন যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করেন। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এই ইভিএম বিকল হওয়ার ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যে সমস্ত জায়গায় ইভিএম বিকল হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত বদলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি অধিকারিক।